আর্কাইভ ভিডিও ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ
● ফ্লরিডা স্টেট বনাম লুইসভিল: মন্ডে নাইট এসিসি ফুটবলে উভয় দলের বাউল আশা জिंदा রাখার লড়াই ● বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস’ ফোরামের উদ্যোগে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস-২০২৬ উদযাপন এবং সাইন্টিফিক আলোচনা অনুষ্ঠিত ● পূর্ব 'আমেরিকান আইডল' প্রতিযোগী কেলেব ফ্লিন স্ত্রীর হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি ● জেমস র্যানসোনকে এমmys 'ইন মেমোরিয়াম'-এ বাদ দিয়েছে, স্ত্রীর আক্ষেপ ● ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুরক্ষা ভয়কে 'হোক্স' বলে আখ্যায়িত করলেন, নিয়ন্ত্রণ দাবি প্রত্যাখ্যান ● উইনি হার্লোর সাবেক লস অ্যাঞ্জেলেস বাড়ি ৪.৫ মিলিয়ন ডলারে পুনরায় বাজারে ● ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবে কানাডা হতে পারে ইইউর প্রথম 'অ্যাসোসিয়েট সদস্য' ● ভারতের শীর্ষ-ভিত্তিক অর্থনৈতিক বাড়তি এবং বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা ● ফ্লরিডা স্টেট বনাম লুইসভিল: মন্ডে নাইট এসিসি ফুটবলে উভয় দলের বাউল আশা জिंदा রাখার লড়াই ● বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস’ ফোরামের উদ্যোগে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস-২০২৬ উদযাপন এবং সাইন্টিফিক আলোচনা অনুষ্ঠিত ● পূর্ব 'আমেরিকান আইডল' প্রতিযোগী কেলেব ফ্লিন স্ত্রীর হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি ● জেমস র্যানসোনকে এমmys 'ইন মেমোরিয়াম'-এ বাদ দিয়েছে, স্ত্রীর আক্ষেপ ● ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুরক্ষা ভয়কে 'হোক্স' বলে আখ্যায়িত করলেন, নিয়ন্ত্রণ দাবি প্রত্যাখ্যান ● উইনি হার্লোর সাবেক লস অ্যাঞ্জেলেস বাড়ি ৪.৫ মিলিয়ন ডলারে পুনরায় বাজারে ● ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবে কানাডা হতে পারে ইইউর প্রথম 'অ্যাসোসিয়েট সদস্য' ● ভারতের শীর্ষ-ভিত্তিক অর্থনৈতিক বাড়তি এবং বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা
বাংলাদেশ

৮ বছরের শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যা: ট্রাইব্যুনালে সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

92 • 1 min read fb x
৮ বছরের শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যা: ট্রাইব্যুনালে সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
৮ বছরের শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যা: ট্রাইব্যুনালে সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, বাংলাদেশ — দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মূল আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না-কে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পরিচালিত এই বিচার প্রক্রিয়ার রায়কে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান এটিকে "বিচার ব্যবস্থার একটি মাইলফলক" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের জন্য এত কম সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।

নৃশংস ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৬ সালের ১৯ মে সকালে ঢাকার মিরপুরের পল্লবী এলাকায়।

পুলিশের মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার তাদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নিচে নেমেছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই তাকে ফুসলিয়ে একই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

রামিসার মা পারভীন যখন বুঝতে পারেন তার মেয়ে নিখোঁজ, তখন তিনি চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ভবনের ভেতর খোঁজার একপর্যায়ে প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন, সোহেল রানার ঘরের দরজার ঠিক বাইরে রামিসার ছোটজুতো জোড়া পড়ে আছে।

প্রতিবেশীরা যখন ঘরের ভেতরে ঢোকেন, তখন সেখানে এক চরম বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন করার পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তার মরদেহটি ক্ষতবিক্ষত ও শিরশ্ছেদ করা হয়।

তদন্তে খুব দ্রুতই বেরিয়ে আসে যে, এই নৃশংস অপরাধ সংঘটন এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে এই দম্পতির কার কী ভূমিকা ছিল: সোহেল রানা (মূল অপরাধী): প্রতিবেশীরা জড়ো হতে শুরু করলে সোহেল রানা তাৎক্ষণিকভাবে ফ্ল্যাট থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের ঝটিকা অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সোহেল স্বীকার করে যে, সেই শিশুটিকে আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যা করেছে। তার গ্রামের বাড়ির মানুষেরা সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা আসার আগেও সোহেল এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম ও সমাজবিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল।

স্বপ্না (সহযোগী ও স্ত্রী): উত্তেজিত প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থল থেকেই স্বপ্নাকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না সম্পূর্ণ দোষ তার স্বামীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিল এবং দাবি করেছিল যে তার স্বামী জোর করে শিশুটিকে বাথরুমে আটকে রেখেছিল। তবে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) আদালতে সফলভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে, তাদের নিজস্ব ফ্ল্যাটে এই অপরাধে স্বপ্নার সক্রিয় সহযোগিতা ছিল এবং সে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

রামিসার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনাটি দ্রুত রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের নজরে আসে এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের বাড়িতে ছুটে যান।

জনগণের তীব্র ক্ষোভ এবং বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের বিচার বিভাগ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মামলাটি নিষ্পত্তি করে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করে দুই আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) ঘোষণা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও স্বীকার করেন যে, আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত বিচার হয়েছে। গণমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে রামিসার বাবা বলেন, "আমি একজন ধর্ষিতা আর ক্ষতবিক্ষত লাশের বাবা। আমার কষ্ট প্রকাশের ভাষা নেই।"

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত আদেশের জন্য মামলার নথি (ডেথ রেফারেন্স) বর্তমানে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষায় এবং তাদের ওপর হওয়া অপরাধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের এই কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ সর্বস্তরে প্রশংসিত হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ



ধন্যবাদ!

আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর পাঠানো হবে।

নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইমেইলে পান।

যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।