ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান স্থগিত করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান। কয়েকদিন ধরে চলা ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পর এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা কমিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তাদের আক্রমণাত্মক অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হবে তা অনিশ্চিত
ইরান স্পষ্ট করেছে যে সামরিক অভিযান স্থগিত করার অর্থ এই নয় যে সংঘাত স্থায়ীভাবে শেষ হয়েছে। তেহরান সতর্ক করেছে যে ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে তারা কঠোর জবাব দেবে। লেবানন বা অঞ্চলের অন্য কোথাও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ইরান পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
কীভাবে এই সংকট শুরু হয়েছিল
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় লেবাননে হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট অবস্থান এবং অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরে ইসরায়েলও ইরানের সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এই সংঘর্ষ চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর মুখোমুখি অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈশ্বিক বাজার ও নৌপথে স্বস্তি
ইরানের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়ে গেলেও সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণার পর বাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিক হুমকির আশঙ্কাও হ্রাস পেয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত, তবে ঝুঁকি বাকি
আন্তর্জাতিক নেতারা পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার ইঙ্গিতকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে অঞ্চলজুড়ে পরিস্থিতি এখনও স্পর্শকাতর রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আলোচকরা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে বৃহৎ পরিসরের সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছেন।