জেনারেল সান্তোস, ফিলিপাইন, ৮ জুন ২০২৬ — সোমবার ভোরে দক্ষিণ ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ৩২ জন নিহত, ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে এবং মিন্দানাও দ্বীপজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল দক্ষিণ মিন্দানাওয়ের জেনারেল সান্তোস সিটির কাছে সারাংগানি প্রদেশের উপকূলে। শক্তিশালী কম্পনে একাধিক প্রদেশ কেঁপে ওঠে, ফলে বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘর, স্কুল ও অফিস ভবন থেকে নিরাপদ স্থানে বেরিয়ে আসে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ ছিল ভবন ধসে পড়া, ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া এবং ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস। সারাংগানি প্রদেশ ছিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি, যেখানে একটি মারাত্মক ভূমিধসে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারী দল এখনো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের সন্ধানে কাজ করছে, এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জেনারেল সান্তোস সিটিতে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে, যার মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনও রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অন্তত একটি উপকূলীয় গ্রাম সুনামির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে প্রায় এক মিটার (৩ ফুট) উচ্চতার ঢেউ তীরভূমিতে আঘাত হানে।
এই ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, জাপানসহ আশপাশের উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের উচ্চভূমিতে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে সুনামির ঝুঁকি কমে গেছে এবং পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
ফিলিপাইনের ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরিবিষয়ক সংস্থা (PHIVOLCS) প্রধান ভূমিকম্পের পর ১৩০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করেছে। কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের আরও শক্তিশালী কম্পনের জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। উদ্ধারকারী দল, সামরিক বাহিনী এবং মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মূল্যায়নে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ফ্রান্স এবং নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ ফিলিপাইনকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
ফিলিপাইন ‘রিং অব ফায়ার’-এর উপর অবস্থিত, যা বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের একটি। তাই দেশটি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ভূমিকম্পটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি, যা দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।