ঢাকা, ১২ মে ২০২৬: মানবপাচার সংক্রান্ত একটি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনসাধারণকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “রাশিয়ায় ‘মানব পাচার’: বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা” শিরোনামে ১০ মে ২০২৬ তারিখে দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত এজেন্সিটির নাম DREAM HOME TRAVELS (Dream Home Travels and Tours Limited নয়)।
এর আগে, ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত “রাশিয়ায় যুদ্ধে আট বাংলাদেশী” শিরোনামের সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের যাচাইয়ে দেখা যায়, DREAM HOME TRAVELS (সনদ নং-০০১২০২১), স্বত্বাধিকারী এম এম আবুল হাসান-এর ট্রাভেল এজেন্সি সনদের মেয়াদ ০৩ এপ্রিল ২০২১ তারিখে উত্তীর্ণ হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। বর্তমানে নিবন্ধন ও নবায়ন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (www.regtravelagency.gov.bd) মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়, নিবন্ধন ও নবায়ন ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, অনেক এজেন্সি মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিবন্ধনবিহীন অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানির ঘটনা ঘটাচ্ছে।
এ অবস্থায় জনসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে—অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে আকাশপথে ভ্রমণ বা ট্যুর প্যাকেজ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, টিকিট বা ট্যুর প্যাকেজ ক্রয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধিত কিনা তা অবশ্যই ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে, যাতে ভ্রমণকারীরা কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি বা প্রতারণার শিকার না হন।