হিউস্টন, টেক্সাস | ৪ জুলাই ২০২৬: স্বাগতিক দেশ কানাডার ঐতিহাসিক ফিফা বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেছে। শনিবার রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে মরক্কোর কাছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে কানাডা। অন্যদিকে দুর্দান্ত এই জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মরক্কো।
নিজেদের সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে ম্যাচের শুরুটা ইতিবাচক করেছিল কানাডা। প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে মরক্কো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঝমাঠের তারকা আজেদিন উনাহি একটি দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিক থেকে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন। পরে তিনি আরও একটি অসাধারণ গোল করে দলের ব্যবধান বাড়ান। ম্যাচের যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় সৌফিয়ান রহিমি তৃতীয় গোলটি করে কানাডার বিদায় নিশ্চিত করেন।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো কানাডার ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান। স্বাগতিক হিসেবে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠে দেশটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। তবে ইনজুরির কারণে দলের অন্যতম বড় তারকা আলফনসো ডেভিসকে না পাওয়ার প্রভাব মরক্কোর বিপক্ষে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করল যে তারা এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার ইতিহাস গড়ার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও তারা দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
এখন কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচের বিজয়ী দল।
কোয়ার্টার ফাইনালের সর্বশেষ চিত্র
৪ জুলাই কানাডা–মরক্কো ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা নিশ্চিত করেছে মাত্র একটি দল—মরক্কো।
বাকি সাতটি কোয়ার্টার ফাইনালের স্থান নির্ধারিত হবে চলমান রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচগুলো থেকে। সামনে রয়েছে ব্রাজিল–নরওয়ে, মেক্সিকো–ইংল্যান্ড, পর্তুগাল–স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র–বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা–মিশর, সুইজারল্যান্ড–কলম্বিয়া এবং ফ্রান্স–প্যারাগুয়ে ম্যাচের বিজয়ীদের লড়াই।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই শিরোপার লড়াই আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশ্বের সেরা আট দলের তালিকায় জায়গা করে নিতে প্রতিটি ম্যাচই এখন হয়ে উঠেছে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই।