ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সব বিকল্প খোলা রাখছেন’। এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা ভয়েস অব আমেরিকাকে (ভিওএ) এ কথা বলেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভিওএ জানিয়েছে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল খবর দিয়েছে যে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার কয়েকটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ওই খবর নিয়ে ভিওএ প্রতিক্রিয়া চাইলে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা এই বক্তব্য দেন।
খবরটি গুরুত্ব পাচ্ছে সময়ের কারণে। ভিওএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী মঙ্গলবার। ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবেন না।
সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে হোয়াইট হাউস কী বলেছে
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের যে খবর ভিওএ উদ্ধৃত করেছে, তাতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন দফার হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামোর পাশাপাশি দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। হোয়াইট হাউস এই পরিকল্পনার অস্তিত্ব নিশ্চিতও করেনি, অস্বীকারও করেনি।
এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে প্রশাসন উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না, ভিওএ তা জানতে চেয়েছিল। জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন:
‘যেসব স্পর্শকাতর সামরিক পরিকল্পনা থাকতেও পারে, না-ও থাকতে পারে, সেগুলো নিয়ে আমরা মন্তব্য করি না।’
নির্বাচনের পরও সামরিক বিকল্প বিবেচনায় আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব বিকল্প খোলা রাখছেন।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কি ইরানে হামলা হবে?
এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো নেই। ট্রাম্প এই সপ্তাহে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে। একটি হলো ইরানকে ‘শেষ করে দেওয়া’, অন্যটি দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে দেশটি তা ব্যবহার করত।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি স্থাপনা ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে।
পিকাক্স মাউন্টেন ইরান: ট্রাম্প কী নজরদারির কথা বলছেন
ট্রাম্প এই সপ্তাহে বলেছেন, পিকাক্স মাউন্টেনে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করছে। গত রোববার ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘পিকাক্স মাউন্টেনে ঠিক কী হচ্ছে, আমরা তা জানি। আমরা জানি বাকি তিনটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে... আমরা নজর রাখছি। যেগুলো আমরা উড়িয়ে দিয়েছি, তার প্রতিটির প্রবেশপথ আমাদের নজরে আছে।’
পিকাক্স মাউন্টেনে বর্তমানে ঠিক কী কার্যক্রম চলছে, ট্রাম্প তা প্রকাশ্যে জানাননি। ভিওএর প্রতিবেদনেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু নেই।
ইরানের অবস্থান আর আইএইএর সতর্কবার্তা
ভিওএ জানায়, ইরান এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে দেশটি বলেছে, সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানে তারা আগ্রহী।
জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, তাঁর দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি। ইরান তাদের কর্মসূচিকে ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে দাবি করে।
তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এই সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদকে ভিন্ন চিত্র দিয়েছেন। তিনি জানান, সংস্থার অনুরোধ সত্ত্বেও ইরান প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়নি এবং প্রবেশাধিকারও দেয়নি। ফলে সুরক্ষা ব্যবস্থার (সেফগার্ড) আওতায় থাকা ইরানের স্থাপনাগুলোতে আগে ঘোষিত পারমাণবিক উপাদান আইএইএ যাচাই করতে পারছে না।
এক পক্ষে আছে ইরানের দাবি, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ। অন্য পক্ষে আছে আইএইএর বক্তব্য, ঘোষিত উপাদান যাচাই করা যাচ্ছে না। এই দুই অবস্থানের ফারাক ঘুচবে কি না, তা নির্ভর করছে একটি প্রশ্নের ওপর: ইরান আইএইএকে অনুরোধ করা প্রবেশাধিকার দেবে কি না। সে বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি।