আর্কাইভ ভিডিও ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ
● নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথন ২০২৬: সুইডেনের ঐতিহাসিক জয় এবং মার্কিন পডিয়াম খরা শেষ ● ময়মনসিংহের অবহেলা দূর করতে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদকে পূর্ণমন্ত্রী করার দাবি প্রবাসীদের- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোরালো দাবি উত্থাপন; নিউইয়র্কের কুইন্সে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা ● নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে ৬০ হাজারের বেশি দৌড়বিদ, জোর মানসিক স্বাস্থ্যে ● ২০২৬ এর আগাম ভোটদান ফলাফলে রেকর্ড উপস্থিতি, উত্তাল মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ● সাইদ ফারাহর সাজা সাড়ে ছয় বছর: জুরিকে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ঘুষ প্রস্তাবের মামলা ● ৮০ বছরের অপেক্ষার অবসান: ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বরে ক্রিস্টো পোপভ ● বিশ্বরেকর্ডের দোরগোড়ায় গ্লেন ফিলিপস, আজ ভারতের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ● আইফোন ডুয়ো ডিসপ্লে ক্র্যাকিং: অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে স্থায়িত্বের ঝুঁকি ● নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথন ২০২৬: সুইডেনের ঐতিহাসিক জয় এবং মার্কিন পডিয়াম খরা শেষ ● ময়মনসিংহের অবহেলা দূর করতে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদকে পূর্ণমন্ত্রী করার দাবি প্রবাসীদের- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোরালো দাবি উত্থাপন; নিউইয়র্কের কুইন্সে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা ● নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে ৬০ হাজারের বেশি দৌড়বিদ, জোর মানসিক স্বাস্থ্যে ● ২০২৬ এর আগাম ভোটদান ফলাফলে রেকর্ড উপস্থিতি, উত্তাল মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ● সাইদ ফারাহর সাজা সাড়ে ছয় বছর: জুরিকে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ঘুষ প্রস্তাবের মামলা ● ৮০ বছরের অপেক্ষার অবসান: ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বরে ক্রিস্টো পোপভ ● বিশ্বরেকর্ডের দোরগোড়ায় গ্লেন ফিলিপস, আজ ভারতের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ● আইফোন ডুয়ো ডিসপ্লে ক্র্যাকিং: অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে স্থায়িত্বের ঝুঁকি
নিউ জার্সি / নিউ ইয়র্ক

ময়মনসিংহের অবহেলা দূর করতে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদকে পূর্ণমন্ত্রী করার দাবি প্রবাসীদের- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোরালো দাবি উত্থাপন; নিউইয়র্কের কুইন্সে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা

ময়মনসিংহের অবহেলা দূর করতে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদকে পূর্ণমন্ত্রী করার দাবি প্রবাসীদের- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোরালো দাবি উত্থাপন; নিউইয়র্কের কুইন্সে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা

নিউইয়র্ক, ৩১ অক্টোবর ২০২৬: ময়মনসিংহের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে একটি স্বনির্ভর, আধুনিক ও উন্নত ময়মনসিংহ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। একই সঙ্গে তাঁকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী ময়মনসিংহবাসীরা।

গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিউইয়র্কের কুইন্সে একটি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁয় ময়মনসিংহ এব্রড ইউ.এস.এ.-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব দাবি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ এব্রড ইউ.এস.এ.-এর আমন্ত্রণে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন US Bangla Tribune-এর এডিটর-ইন-চীফ জনাব আল মামুন। এ ছাড়া ভার্জিনিয়া থেকে আগত বিশেষ অতিথি জনাব ড. ইমরান এবং ময়মনসিংহ এব্রডের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জনাব শরাফ সরকার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহ বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এ অঞ্চলের অবদান অপরিসীম। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ময়মনসিংহে অবস্থিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অবহেলিত হয়ে আসছে।

প্রবাসীরা বলেন, “ময়মনসিংহের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও শিক্ষানগরী থেকে সদর আসনের একজন সংসদ সদস্যকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুগ যুগ ধরে ময়মনসিংহ অবহেলিত। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদকে পূর্ণমন্ত্রী করা হোক।”

তাঁদের মতে, ময়মনসিংহের উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে একজন পূর্ণমন্ত্রীর কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি US Bangla Tribune-এর এডিটর-ইন-চীফ জনাব আল মামুন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদকে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আট মাসে কী কী উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং আগামী চার বছরে ময়মনসিংহের উন্নয়নে কী পরিকল্পনা নিবেন—সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

জবাবে সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র আট মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। তাঁর ভাষায়, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এ দেশের সমস্ত কিছু ধ্বংস করে গেছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।”

তিনি বলেন, ময়মনসিংহের রাস্তাঘাট সংস্কার করে যোগাযোগব্যবস্থা সচল করা, শিক্ষা নগরী হিসেবে ময়মনসিংহের হারানো ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শহরকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য সরকারের সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছেন।

ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত করার বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩০ জন সংসদ সদস্য, সচিব ও উপসচিবদের নিয়ে একটি বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে।

ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার যাতায়াতের সময় কমানো এবং শহরের যানজট নিরসনে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শহরের যানজট কমাতে ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, ময়মনসিংহ শহরকে যানজটমুক্ত করতে রেললাইন শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের উপর সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ ধরনের অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, বিগত ১৭ বছরের ফ‍্যসিস্ট সরকারের শাসনামলে এ অঞ্চলের উন্নয়নে প্রত্যাশিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি বলেন, ময়মনসিংহে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বিগত সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি।

ময়মনসিংহ শহরে একটি বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহকে উন্নত ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার আওতায় আনতে বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ময়মনসিংহের কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়েও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে একটি হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং তাঁরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন।

কৃষিপ্রধান বৃহত্তর ময়মনসিংহের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ময়মনসিংহের স্বাস্থ্যসেবার সংকটের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

তিনি বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিপুল জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবার জন্য শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভরশীল। অথচ হাসপাতালের সক্ষমতা ও রোগীর চাপের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১,০০০ শয্যার হাসপাতালের মাত্র ৮০০ শয্যা কার্যকর রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিদিন গড়ে ৪,২০০ থেকে ৪,৩০০ রোগী বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।

ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতিও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আধুনিকায়ন ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ১,০০০ শয্যার পূর্ণ সক্ষমতায় উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে আরও হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে বৃহত্তর ময়মনসিংহের রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায় এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিনের সংকট অনেকাংশে দূর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভার্জিনিয়া থেকে আগত বিশেষ অতিথি জনাব ড. ইমরান তাঁর বক্তব্যে প্রবাসী ময়মনসিংহবাসীদের আবেগ, ভালোবাসা ও জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, ময়মনসিংহ আমাদের হৃদয়ের একটি আপন ঠিকানা। আমাদের শিকড় ময়মনসিংহে, আমাদের ভালোবাসা ময়মনসিংহের মানুষের প্রতি।”

ময়মনসিংহের উন্নয়ন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সুবিধা আরও এগিয়ে যাক—এটাই প্রবাসী ময়মনসিংহবাসীদের প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, “আজকের এই মিলনমেলা প্রবাসী ময়মনসিংহবাসীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করুক—এটাই আমার কামনা। এমন একটি সুন্দর আয়োজনের জন্য ময়মনসিংহ এব্রড ইউ.এস.এ.-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

ড. ইমরানের বক্তব্যে উঠে আসে, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও প্রবাসীদের হৃদয়ে ময়মনসিংহের অবস্থান সবসময় অটুট। জন্মভূমির উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ময়মনসিংহ এব্রডের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জনাব শরাফ সরকার তাঁর বক্তব্যে ময়মনসিংহের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও উন্নয়নগত বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির সাবেক নেত্রী পাঁচবার নির্বাচনে জয়লাভ করেও ময়মনসিংহের উন্নয়নে প্রত্যাশিত কাজ করেননি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদের ভূয়সী প্রশংসা করে শরাফ সরকার বলেন, “ওয়াহাব ময়মনসিংহবাসীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তিনি সব ধর্মাবলম্বী মানুষকে সমান চোখে দেখেন। তাঁর এই অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ময়মনসিংহের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যের প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে এবং নির্বাচনে তাঁদের উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন তিনি।

শরাফ সরকার বলেন, এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট রাখতে হবে। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সংসদ সদস্যকে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই আদর্শে এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ময়মনসিংহের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ময়মনসিংহের শিক্ষা, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ময়মনসিংহ এব্রড ইউ.এস.এ. ইনকের বর্তমান সভাপতি জনাব ফরিদ আহমেদ সংসদ সদস্য জনাব ওয়াহাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ওয়াহাব ভাই একজন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তাঁর আন্তরিকতা, মানবিক গুণাবলি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও জীবনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।”

তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহের মানুষ দেশের ভেতরে ও বাইরে যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের হৃদয়ে সব সময় প্রিয় জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা কাজ করে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী ময়মনসিংহবাসীরা নিজ জেলার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে আগ্রহী।

এ সময় তিনি সংসদ সদস্য জনাব ওয়াহাবের প্রতি প্রবাসী ময়মনসিংহবাসীদের পাশে সর্বদা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের জনপ্রতিনিধিদের সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হলে জেলার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

ফরিদ আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ময়মনসিংহের ঐতিহ্য, মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত জেলা গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ এবং প্রবাসী ময়মনসিংহবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে আগামীর অগ্রযাত্রার মূল শক্তি।

অন‍্যদিকে, বৃহত্তর ময়মনসিংহকে একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, ময়মনসিংহের উন্নয়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ অঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহকে একটি উন্নত ও স্বনির্ভর অঞ্চলে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী ময়মনসিংহবাসীরা তাঁদের জন্মভূমির উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তাঁরা বলেন, ময়মনসিংহের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কৃষি খাতের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা, ময়মনসিংহের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করতে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসীদের প্রত্যাশা, জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা—ময়মনসিংহের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে, উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং একটি স্বনির্ভর, আধুনিক ও সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ গড়ে উঠবে।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জনপদ। প্রাচীন ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধ উপস্থিতি এ জেলাকে দেশের শিক্ষা মানচিত্রে এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে। এ বিপুল শিক্ষাগত ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে ময়মনসিংহ জেলা সদরে একজন মন্ত্রীর নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্ব এখন সময়ের দাবি।

ময়মনসিংহের শিক্ষাক্ষেত্রে রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস। ১৮৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১৯০৮ সালে কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ এ অঞ্চলের শিক্ষা-ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন। এসব প্রতিষ্ঠান যুগের পর যুগ অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ময়মনসিংহের অবস্থান আরও সুদৃঢ়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কৃষি, চিকিৎসা, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান দেশের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখছে।

এ জেলার বিশেষ গৌরবের আরেকটি অধ্যায় হলো ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, যা বাংলাদেশের প্রথম মহিলা ক্যাডেট কলেজ হিসেবে পরিচিত। নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অবদানও উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষক তৈরির ক্ষেত্রেও ময়মনসিংহের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (PTI), উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (HSTTI) এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE) শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, নাসিরাবাদ কলেজিয়েট স্কুল, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজ এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ময়মনসিংহের শিক্ষার্থীরা শুধু জেলার মধ্যেই নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশায় এ জেলার মানুষের সাফল্য ময়মনসিংহের গৌরবকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীরাও এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে সাফল্য অর্জন করছেন। ফলে ময়মনসিংহ আজ শুধু একটি জেলা নয়, বরং একটি বৃহৎ শিক্ষা ও মেধা বিকাশের কেন্দ্র।

এত সমৃদ্ধ শিক্ষা-ঐতিহ্য, বিপুল জনসংখ্যা, কৃষি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, চিকিৎসাসেবার ওপর বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের নির্ভরতা এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে জেলা সদরে একজন মন্ত্রীর নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ময়মনসিংহের মানুষের প্রত্যাশা, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জেলার স্বার্থ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য একজন মন্ত্রী কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

একজন মন্ত্রীর উপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক মর্যাদার বিষয় নয়; বরং তা হতে পারে জেলার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে এ প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব, কার্যকর উদ্যোগ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।

ময়মনসিংহের শিক্ষা-ঐতিহ্য ও মেধাবী প্রজন্মের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বলা যায়, এ জেলা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। সেই অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে ময়মনসিংহ জেলা সদরে একজন যোগ্য ও জনবান্ধব মন্ত্রীর নেতৃত্ব এখন জেলার মানুষের সময়োপযোগী প্রত্যাশা।

ময়মনসিংহ শিক্ষা ও মেধায় এগিয়ে আছে; এবার উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও জাতীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

ময়মনসিংহের মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—অবহেলিত ময়মনসিংহকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে এনে একটি স্বনির্ভর ময়মনসিংহ প্রতিষ্ঠা করা।



ধন্যবাদ!

আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর পাঠানো হবে।

নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইমেইলে পান।

যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।