গত ২৩ অক্টোবর বাজারে আসা অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন আইফোন ডুয়ো-র ডিসপ্লে ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, ফোনটি খোলার সময় মাঝখানের কব্জির কাছে স্ক্রিনে ফাটল দেখা দিচ্ছে এবং ডিসপ্লের মাঝখান দিয়ে একটি রেখা তৈরি হচ্ছে।
এই সমস্যাটি এখন গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে কারণ আইফোন ডুয়ো-র দাম অত্যন্ত বেশি। এর শুরুর দাম ১,৯৯৯ ডলার এবং উচ্চতর মডেলগুলোর দাম ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত। ফলে এমন স্থায়িত্বের সমস্যা ব্যবহারকারীদের জন্য বড় আর্থিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টেক্সাসের বাসিন্দা জেসি ডালটন সিবিএস নিউজকে জানান, ফোনটিতে কেস লাগানোর পর যখন তিনি এটি খুলতে যান, তখন কব্জির কাছে প্রচণ্ড চাপ অনুভব করেন। তিনি বলেন, "আমি ভেবেছিলাম হয়তো কেসের কারণে আটকে গেছে, তাই একটু চাপ দিই এবং পুরো জিনিসটি মচকে যায়। আমি একটি জোরে 'পপ' শব্দ শুনলাম এবং স্ক্রিনটি ঠিক মাঝখান থেকে ফেটে গেল।" তিনি আরও জানান, সেটআপ শেষ করার আগেই এই সমস্যাটি দেখা দেয়।
অন্য এক ব্যবহারকারী রোনেশিয়া জানান, কেনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার ফোনটি খুলে আনতে প্রচণ্ড বাধা অনুভব করেন এবং এরপর ডিম ফাটার মতো শব্দ হয়ে স্ক্রিনটি ফেটে যায়। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল স্টোর থেকে জানানো হয়েছে যে এই সমস্যাটি মেরামত করা সম্ভব নয়, কেবল রিপ্লেসমেন্ট বা নতুন ফোন দেওয়া সম্ভব। তবে ফোনটি ব্যাকঅর্ডারে থাকায় অনেক গ্রাহক নতুন ডিভাইসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
কেন আইফোন ডুয়ো ডিসপ্লে ক্র্যাকিং হচ্ছে?
ডিভাইস মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান আইফিক্সইট (iFixit) মনে করছে, এই সমস্যার পেছনে ফোনের কব্জির বা হিঞ্জ ডিজাইনের ত্রুটি থাকতে পারে। আইফিক্সইটের সিইও কাইল উইনস এক্স-এ লিখেছেন, "একটি ম্যানুফ্যাকচারিং ভ্যারিয়েন্স বা বালির একটি কণা এই ভঙ্গুর ডিসপ্লে প্যানেলটিকে নষ্ট করে দিতে পারে।"
টেকরাডারের এডিটর অ্যাট লার্জ ল্যান্স উলানফ জানিয়েছেন, এই ফোল্ডিং স্ক্রিনটি ওএলইডি প্যানেল, গ্লাস, প্লাস্টিক কভার এবং একটি মেকানিক্যাল হিঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত। তার মতে, এর অতি-পাতলা গ্লাসটি সবচেয়ে নাজুক অংশ হতে পারে।
আইফোন ডুয়ো সমস্যা ও অ্যাপলের প্রতিক্রিয়া
অ্যাপলের একজন প্রতিনিধি সিএনবিসি-কে জানিয়েছেন, "আমরা অল্প কিছু আইফোন ডুয়ো ইউনিটের অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লের সমস্যা সম্পর্কে অবগত আছি।" কোম্পানিটি জানিয়েছে, অ্যাপলকেয়ার ওয়ারেন্টির আওতায় এই ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইসগুলো বদলে দেওয়া হবে। তবে ওয়ারেন্টির বাইরে হলে অভ্যন্তরীণ স্ক্রিন মেরামতের খরচ হবে ৯৯৯ ডলার।
নতুন সিইও জন টারনাসের অধীনে এটি অ্যাপলের প্রথম বড় পণ্য লঞ্চ। তবে হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি সফটওয়্যারেও কিছু ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আইওএস ২৭ (iOS 27) চালিত এই ফোনে অনেক থার্ড-পার্টি অ্যাপ এখনো ফোল্ডেবল স্ক্রিনের জন্য অপ্টিমাইজ করা হয়নি বলে রিভিউতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে অ্যাপলের এই দেরিতে বাজারে আসা এবং স্থায়িত্বের সমস্যাকে পুঁজি করে বিজ্ঞাপন দিয়েছে স্যামসাং। তাদের 'স্লাইস' নামক একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায় একটি আপেল টুকরো করে কাটা হচ্ছে, যা দিয়ে স্যামসাংয়ের ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড সিরিজের ধারাবাহিকতাকে বোঝানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জুলাই মাসে মুক্তি পাওয়া স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর দাম ১,৯০০ ডলার।
এখন প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই ডিসপ্লে ফাটল কি একটি ব্যাপক উৎপাদন ত্রুটি নাকি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা। এছাড়া ব্যাকঅর্ডারে থাকা রিপ্লেসমেন্ট ইউনিটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের কাছে কবে পৌঁছাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।