যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলের ফেডারেল আদালত গত শুক্রবার সাইদ ফারাহকে (৪৪) সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এক জুরিকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার ডলার দিয়ে খালাসের পক্ষে ভোট দেওয়ানোর একটি পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখায় তাঁর এই সাজা হয়েছে। খবরটি দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম উইলমার রেডিও।
উইলমার রেডিওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইদ ফারাহ ফিডিং আওয়ার ফিউচার মামলার প্রথম বিচারে আসামি ছিলেন এবং সেই বিচারে খালাস পেয়েছিলেন। এবার জুরিকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার দায়ে তাঁকে ফেডারেল কারাগারে যেতে হচ্ছে।
মামলার মোড় ঘুরিয়েছেন সেই জুরি নিজেই। ঘুষের প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। সাজা ঘোষণার সময় ফেডারেল বিচারক এরিক টসট্রাড তাঁর প্রশংসা করেন এবং তাঁকে 'নায়ক' আখ্যা দেন।
সাইদ ফারাহ সাজা কত বছর, জুরিকে কত টাকার প্রস্তাব
উইলমার রেডিওর প্রতিবেদনে মামলাটির মূল তথ্যগুলো এ রকম:
- দণ্ডিত ব্যক্তি: সাইদ ফারাহ, বয়স ৪৪ বছর
- সাজা: সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড
- ঘুষের প্রস্তাব: খালাসের পক্ষে ভোটের বিনিময়ে এক জুরিকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার ডলার
- আদালত: সেন্ট পলের ফেডারেল আদালত
- বিচারক: ফেডারেল বিচারক এরিক টসট্রাড
- রায়ের দিন: গত শুক্রবার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফারাহ সাজা পেয়েছেন পরিকল্পনাটিতে 'তাঁর ভূমিকার' জন্য। এই শব্দচয়ন থেকে ধারণা করা যায়, পরিকল্পনায় আরও কেউ জড়িত ছিলেন। তবে উইলমার রেডিওর প্রতিবেদনে অন্য কারও নাম নেই।
জুরি ঘুষ কারাদণ্ড নিয়ে বিচারক টসট্রাড যা বললেন
উইলমার রেডিওর খবর অনুযায়ী, বিচারক টসট্রাড আদালতে বলেন, জুরিকে ঘুষ দেওয়া বিচারব্যবস্থার সততার জন্য হুমকি। মার্কিন ফৌজদারি বিচারে রায় নির্ভর করে জুরিদের ওপর। তাই কোনো জুরিকে অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়ার ভিত্তিকেই আঘাত করে।
প্রস্তাব পাওয়া জুরি দেরি না করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আদালত তাঁর এই পদক্ষেপকেই বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ কবে ও কীভাবে পরিকল্পনাটি উদ্ঘাটন করে, প্রতিবেদনে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু নেই।
ফিডিং আওয়ার ফিউচার জুরি ঘুষ মামলায় যে প্রশ্নগুলোর উত্তর মেলেনি
উইলমার রেডিওর সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না।
প্রথমত, ঘুষের পরিকল্পনায় আর কারা জড়িত ছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।
দ্বিতীয়ত, কোন নির্দিষ্ট অভিযোগে ফারাহ দণ্ডিত হলেন, তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন নাকি বিচারে দোষী সাব্যস্ত হন, প্রতিবেদনে তার উল্লেখ নেই। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই।
তৃতীয়ত, ফিডিং আওয়ার ফিউচার মামলার মূল অভিযোগ, অর্থের পরিমাণ, আসামির সংখ্যা এবং অন্য বিচারগুলো এখন কোন পর্যায়ে আছে, তা এই প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। প্রতিবেদনে শুধু এটুকু বলা হয়েছে যে ফারাহ ওই মামলার 'প্রথম বিচারের' আসামি ছিলেন। এ থেকে বোঝা যায়, মামলাটিতে একাধিক দফায় বিচার হয়েছে বা হচ্ছে।
সংশোধনী: এই প্রতিবেদনের আগের সংস্করণে বলা হয়েছিল, ঘুষের পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার আগেই ফারাহ মূল অভিযোগ থেকে খালাস পান। উইলমার রেডিওর প্রতিবেদনে ঘটনার এই ক্রম সমর্থিত নয়, তাই তথ্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে। আগের সংস্করণে ফিডিং আওয়ার ফিউচার মামলা নিয়ে যে সাধারণ বর্ণনা ছিল, সূত্রে তার ভিত্তি না থাকায় সেটিও বাদ দেওয়া হয়েছে।