রোববারের নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে ৬০ হাজারের বেশি দৌড়বিদ অংশ নেবেন বলে আশা করছে আয়োজক সংস্থা নিউ ইয়র্ক রোড রানার্স (এনওয়াইআরআর)। স্পোর্টস বিজনেস জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রব সিমেলক্যায়ার এ কথা জানান।
তাঁর ভাষ্যে দুটি প্রবণতা স্পষ্ট। কোভিড-পরবর্তী সময়ে রান ক্লাব সংস্কৃতির দ্রুত বিস্তার দৌড়বিদের সংখ্যা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে সংস্থাটি মানসিক স্বাস্থ্যকে তাদের কৌশলের কেন্দ্রে রেখেছে।
স্পোর্টস বিজনেস জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মোট দৌড়বিদের সংখ্যায় নিউ ইয়র্ক ও লন্ডন ম্যারাথন এখন প্রায় সমানে সমান। এ দুটিই বিশ্বের বৃহত্তম ম্যারাথনগুলোর অন্যতম।
এনওয়াইআরআর ম্যারাথনে কতজন দৌড়াচ্ছেন
সিমেলক্যায়ার ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেন। তিনি জানান, তখন থেকে প্রতিবছরই দৌড়বিদের সংখ্যা বেড়েছে এবং এবার তা ৬০ হাজার ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো জানানো হয়নি।
তবে আকার আর কত বাড়ানো যাবে, তার একটি সীমা আছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, একপর্যায়ে বিষয়টি জায়গা ও বাস্তব সক্ষমতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
“আমরা জানি, অদূর ভবিষ্যতে ৭০,০০০ জনের ম্যারাথন আমাদের হচ্ছে না,” বলেন সিমেলক্যায়ার।
তিনি আরও বলেন, সংস্থাটি যত বেশি সম্ভব দৌড়বিদ চায়, কিন্তু তাতে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এবারের আয়োজনে প্রায় ২ মিলিয়ন দর্শক উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
সফল ম্যারাথনের মাপকাঠি কী, এমন প্রশ্নে সিমেলক্যায়ার বলেন, প্রত্যেক দৌড়বিদ সুস্থভাবে দৌড় শেষ করবেন, এটিই প্রথম বিবেচনা।
রান ক্লাব সংস্কৃতি ও নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথন স্পনসর
দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে রান ক্লাব সংস্কৃতির শক্তি ও তীব্রতা, জানান সিমেলক্যায়ার। নিজে সব সময় একা দৌড়াতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
“রান ক্লাব সংস্কৃতির বিস্ফোরণ কোভিড-পরবর্তী দৌড়ের জোয়ারের এক বিশাল অংশ,” বলেন তিনি।
স্পোর্টস বিজনেস জার্নাল জানিয়েছে, এবার ম্যারাথনে রেকর্ডসংখ্যক স্পনসর যুক্ত হয়েছে। সিমেলক্যায়ারের ব্যাখ্যা, ব্র্যান্ড ও ভোক্তারা দৌড়বিদ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হতে চাইছে। পাশাপাশি বার্গার চেইন শেক শ্যাকও স্পনসরের তালিকায় আছে।
তিনি আরও জানান, দৌড়বিদদের গড় বয়স কমছে। অনেক ব্র্যান্ড ঠিক এই তরুণ গোষ্ঠীকেই চায়।
মাইন্ডফুল ৫কে ও মানসিক স্বাস্থ্যে জোর
সিমেলক্যায়ার জানান, প্রতিবছর ম্যারাথন দৌড়বিদদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে জানতে চাওয়া হয় তাঁরা কেন দৌড়ান। প্রতিবারই শীর্ষ উত্তর আসে মানসিক স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও মানসিক চাপ কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত কারণ।
এ কারণে তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকের উদ্যোগগুলোর একটি ছিল মানসিক স্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে একটি দৌড় চালু করা। এর নাম ‘মাইন্ডফুল ৫কে’, যা প্রতিবছর মে মাসের প্রথম শনিবার অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যারাথনসহ সংস্থার সব প্রচারণায় মানসিক স্বাস্থ্যের বার্তা রাখা হয় বলে জানান তিনি। এনওয়াইআরআর-এর দাতব্য কর্মসূচি থেকে কয়েক ডজন মানসিক স্বাস্থ্য সংগঠন সুবিধা পাচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক ম্যারাথন রুট শুরু স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে
ম্যারাথনের সূচনাস্থল স্ট্যাটেন আইল্যান্ড। সিমেলক্যায়ার জানান, ম্যারাথনের দিন ভোর সাড়ে চারটায় পুলিশের গাড়ি তাঁকে সেখানে নিয়ে যায়। পেশাদার দৌড়বিদেরা পৌঁছানোর আগেই তিনি ফিনিশ লাইনে ফিরে আসেন এবং শেষ দৌড়বিদ পৌঁছানো পর্যন্ত, অর্থাৎ রাত নয়টা-দশটা পর্যন্ত, সেখানে থাকেন।
পুরো রুটের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা ফলাফল ও দৌড়বিদ অবস্থান অনুসরণের পদ্ধতি নিয়ে সাক্ষাৎকারে কিছু বলা হয়নি। রোববার শেষ পর্যন্ত কতজন দৌড়বিদ অংশ নেবেন, সেই চূড়ান্ত সংখ্যাও এখনো আয়োজকেরা প্রকাশ করেননি।