সিএনএনের পক্ষে এসএসআরএসের করা নতুন এক জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ৩২ শতাংশে নেমেছে। কংগ্রেস ব্যালটে রিপাবলিকানদের চেয়ে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছে ডেমোক্র্যাটরা।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে করা এই জরিপের ফল সিএনএন প্রকাশ করেছে ২১ অক্টোবর। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৪৯ শতাংশ আর রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৯ শতাংশ সমর্থন রয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগের সময়ের পর সিএনএনের জরিপে এটিই ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় ব্যবধান।
প্রায় দুই বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের সব শাখা রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। এমন সময়ে জরিপে অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশের বেশি ভোটার বলেছেন, এই নির্বাচন তাঁদের কাছে ওয়াশিংটনে পরিবর্তন আনার সুযোগ। তবে জাতীয় এই ব্যবধান প্রতিনিধি পরিষদে সমান হারে আসনে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে সিএনএন নিজেই সতর্ক করেছে।
১০ পয়েন্টের ব্যবধান কেন সমান হারে আসনে না-ও বদলাতে পারে
সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাতীয় পপুলার ভোটে ডেমোক্র্যাটরা ১০ পয়েন্টে জিতলে তা হবে ২০২৪ সালের প্রতিনিধি পরিষদের জাতীয় ভোটের তুলনায় মোটামুটি ১৩ পয়েন্টের পালাবদল।
তবু দুটি কারণে ডেমোক্র্যাটদের আসন লাভ সীমিত থাকতে পারে বলে সিএনএন উল্লেখ করেছে। প্রথম কারণ মধ্য-দশকে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ। দ্বিতীয় কারণ, এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অনেক আসনই এমন এলাকায়, যেখানে ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে জিতেছিলেন।
দলভিত্তিক ভোটারগোষ্ঠীতে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার হিসাব সিএনএন এভাবে দিয়েছে:
- কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার: ৭০ পয়েন্ট
- লাতিনো ভোটার: ৪০ পয়েন্ট
- তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক: ৩১ পয়েন্ট
- নারী: ২১ পয়েন্ট
- ভোট দিতে অত্যন্ত আগ্রহী ভোটার: ১৮ পয়েন্ট
- স্বতন্ত্র ভোটার: ১৫ পয়েন্ট
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন: অর্থনীতিই এখন বড় বোঝা
সিএনএন জানিয়েছে, ৩২ শতাংশ অনুমোদন হার আগের সর্বনিম্নের চেয়েও এক পয়েন্ট কম। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগের তুলনায় এটি ৭ পয়েন্ট কম। ট্রাম্পের কাজ জোরালোভাবে সমর্থন করেন মাত্র ১৩ শতাংশ, যা গত মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়ের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট কম।
অর্থনৈতিক বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান আরও দুর্বল। অর্থনীতি সামলানোয় তাঁর কাজ সমর্থন করেন ২৭ শতাংশ, আর মূল্যস্ফীতি সামলানোয় ২৩ শতাংশ। সিএনএনের তথ্যমতে, দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন তাঁর নীতি অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ করেছে। এই মতের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রিপাবলিকানও আছেন।
২০১৮ সালের শরতে ৫৫ শতাংশ বলেছিলেন দেশ মোটামুটি ভালো চলছে, আর ৬৯ শতাংশ অর্থনৈতিক অবস্থাকে ভালো বলেছিলেন। এখন এই হার যথাক্রমে ৩০ ও ২৬ শতাংশ। সিএনএনের মতে, সেই সময় অর্থনীতি ছিল ট্রাম্পের শক্তির জায়গা। এখন এটিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে দিচ্ছে, এবং দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর সমর্থকভিত্তিও ক্ষয় করছে।
দাম, বিতাড়ন ও দুর্নীতি: ভোটারদের মূল চিন্তা কী
জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো ভোটারদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। জরিপে প্রতি ১০ জনে প্রায় ৭ জন বলেছেন, দাম কমানোর চেষ্টায় ট্রাম্প যথেষ্ট দূর যাননি। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার বলেছেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগে এবং অভিবাসী বিতাড়ন (ডিপোর্টেশন) তদারকিতে তিনি সীমা ছাড়িয়েছেন।
অর্থনীতিকে প্রধান উদ্বেগ বলা নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ৪৬ শতাংশের বিপরীতে ৩৭ শতাংশে এগিয়ে। অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে ডেমোক্র্যাটদের বেশি সক্ষম মনে করছেন ভোটাররা। তবে প্রতি ১০ জনে প্রায় ৩ জন বলেছেন, কোনো দলই এসব বিষয় ভালোভাবে সামলাতে পারবে না। প্রায় সমানসংখ্যক ভোটার মনে করেন, কোনো দলের অগ্রাধিকারই ঠিক নয়।
অর্থনীতির পর সরকারে দুর্নীতিকে প্রধান উদ্বেগ বলেছেন ১৯ শতাংশ, আর মার্কিন গণতন্ত্রের অবস্থাকে ১৮ শতাংশ। প্রতি ১০ জনে প্রায় ৪ জন বলেছেন, দুর্নীতি মোকাবিলায় কোনো দলই ভালো করবে না। যাঁদের পছন্দ আছে, তাঁদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা সামান্য এগিয়ে।
প্রতি ১০ জনে প্রায় ৬ জন ভোটার বলেছেন, তাঁদের ভোট ট্রাম্পকে নিয়ে একটি বার্তা দেবে। এর মধ্যে বিরোধিতার বার্তা দিতে চান সমর্থনের বার্তা দিতে চাওয়াদের দ্বিগুণ মানুষ। তবে সিএনএন এটাও জানিয়েছে, কিছু ভোটার সন্দিহান যে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অর্থবহ কোনো উন্নতি হবে।
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস নির্বাচন ২০২৬: যা এখনো অজানা
সিএনএনের প্রতিবেদনে জরিপের নমুনার আকার, মাঠপর্যায়ের তারিখ বা ভুলের সম্ভাব্য সীমা উল্লেখ নেই। সিএনএন বলছে, গত এক বছর ধরে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতি টিকে আছে এবং সাম্প্রতিক জরিপে ব্যবধান বেড়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, ১০ পয়েন্টের এই ব্যবধান ভোটের দিন পর্যন্ত টিকবে কি না এবং প্রকৃত পপুলার ভোটে প্রতিফলিত হবে কি না। সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ট্রাম্পের দুর্গ বলে পরিচিত এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা কতটি আসন পেতে পারে, আর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কোন দলের হাতে যাবে, সেই উত্তর মিলবে ভোট গণনার পর।