ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে ফেমার দুর্যোগ সহায়তা অনুমোদনে গড়ে লাগছে প্রায় ১০ সপ্তাহ, যা আগের দুই দশকে ছিল তিন সপ্তাহ বা তারও কম; একই সঙ্গে সহায়তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়েছে। ইয়াহুর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৫ সালে বড় দুর্যোগ ঘোষণার অনুরোধের ২৬ শতাংশ প্রত্যাখ্যান করেছে প্রশাসন, যা আগের দুই দশকে গড়ে ছিল ১৫ শতাংশ। বড় দুর্যোগ ঘোষণা পেলেই ফেডারেল সরকারের তাৎক্ষণিক সহায়তার পথ খুলে যায়।
এই ধরনের সহায়তার মধ্যে থাকে অস্থায়ী বাসস্থান, ঋণ ও সংস্কারের জন্য অনুদানের মতো ব্যক্তিগত সহায়তা—যা বন্যা, ঝড় বা দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত দরকার হয়। প্রশাসন বলছে, গভর্নরদের অনুরোধ তারা এখন আরও যত্নসহকারে যাচাই করছে।
অনুমোদনে দলীয় ভাগ, ২০২৬ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাবের আশঙ্কা
ফেমার তথ্যের স্বাধীন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া রাজ্যগুলোর ফেডারেল সহায়তার অনুরোধের প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হয়েছে। অপরদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কামালা হ্যারিসকে ভোট দেওয়া রাজ্যগুলোর অনুরোধের অনুমোদনের হার প্রায় অর্ধেক।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের জুলাই ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ১৯৮৯ সালের পর এত তীক্ষ্ণ দলীয় ভাগ অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের সময়ে দেখা যায়নি। ১৯৮৯ সালেই দুর্যোগ ঘোষণার নিয়ম নির্ধারণ করে ফেডারেল আইন হয়।
নাগরিক সম্পৃক্ততা ও জলবায়ু নীতির এক অধ্যাপক এই বিশ্লেষণে যুক্তি দিয়েছেন, ধীরগতির সহায়তা নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ ব্যালটে প্রতিফলিত হতে পারে। তাঁর গবেষণাসহ কয়েকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নাগরিক সম্পৃক্ততা সাধারণত বেশি থাকে।
ফেমার জনবল ও ট্রাম্প প্রশাসনের ফেমা বাজেট কাট
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ফেমার অর্থায়ন ও জনবলে বড় কাট পড়েছে। প্রশাসন প্রথমে সংস্থাটি বিলুপ্ত করার কথাও বলেছিল—যুক্তি ছিল, রাজ্য ও স্থানীয় জনপদ নিজেরাই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারবে।
ফেমার জনবল ৫০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করেছিল প্রশাসন, কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এক বিচারক সেই পরিকল্পনাকে বেআইনি ঘোষণা করেন। এর আগে ২০২৫ সালেই ফেমা তার প্রশিক্ষিত কর্মীর ১৭ শতাংশের বেশি হারায়, যাদের মধ্যে শত শত অন-কল দুর্যোগ সাড়াদাতাও ছিলেন।
তবে দেশীয় নিরাপত্তা সচিব মার্কওয়েন মুলিন সংস্থায় সরু জনবলের লক্ষ্য এখনো সমর্থন করছেন।
এছাড়া রাজ্যগুলোকে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে এবং বাড়ি, হাসপাতালসহ কাঠামো ঝড়ের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে বরাদ্দ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারও আটকে দিয়েছিল প্রশাসন। মামলার চাপে কিছু তহবিল ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হলেও অনেক জনপদ এখনো নিজেদের ভরসায়ই কষ্ট করছে।
রেকর্ড গরম, ঝড় আর সুপার এল নিনোর ঝুঁকি
২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর হারিকেন ইসাইয়াস আঘাত হানে ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডলে—এটি রেকর্ড ভাঙার বছরের সাম্প্রতিকতম দুর্যোগ। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে গরম গ্রীষ্মের রেকর্ড হয়েছে এই সময়ে; লাগাতার তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল ও ভারী বর্ষণে বন্যা দেখা দিয়েছে কয়েকটি রাজ্যে।
এর ওপর 'সুপার এল নিনো'র কারণে চরম আবহাওয়া আরও বাড়তে পারে—অন্তত ২০২৭ সালের বসন্ত পর্যন্ত। সক্রিয় হারিকেন মৌসুমে দেশজুড়ে দুর্যোগের ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এখন প্রশ্ন, এই দলীয় অনুমোদনের ফারাক ও সহায়তার বিলম্ব ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না। একই সঙ্গে আটকে থাকা বাকি ঝুঁকি-হ্রাস তহবিল মামলার মাধ্যমে ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তাও দেখার বিষয়।