লস অ্যাঞ্জেলেস: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ২৭ মিলিয়ন ডলারের এক বিশাল হসপিস প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি মৃত রোগীদের পরিচয় ব্যবহার করে এবং কখনো কখনো তাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে মেডিকেয়ারের কাছে ভুয়া বিল জমা দিত। এসব অর্থ দিয়ে অভিযুক্তরা বিলাসবহুল গাড়ি, দামি সম্পদ ও আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করছিল।
ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মৃত ব্যক্তি এবং অসহায় রোগীদের পরিচয় ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন হসপিস সেবায় নিবন্ধিত দেখায়। এরপর রোগীদের জন্য কখনো প্রদান না করা চিকিৎসা ও সেবার বিপরীতে মেডিকেয়ার থেকে কোটি কোটি ডলার আদায় করা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের ভ্যান নাইস এলাকার এক হসপিস পরিচালনাকারী এই প্রতারণা চক্রের অন্যতম মূল হোতা। তিনি এবং তার সহযোগীরা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার মূল্যের একটি রোলস-রয়েস ফ্যান্টমসহ একাধিক উচ্চমূল্যের গাড়ি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি দেশব্যাপী পরিচালিত ইতিহাসের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই অভিযানে দেশজুড়ে ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে মোট ৪৫৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া স্বাস্থ্যসেবা দাবির অভিযোগ রয়েছে।
ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই হসপিস প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্তত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি, পরিচয় চুরি, অর্থ পাচার এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে প্রতারণার অর্থ দিয়ে কেনা বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করেছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, বিপুল অঙ্কের জরিমানা এবং সম্পদ বাজেয়াপ্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হসপিস জালিয়াতি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অপরাধী চক্রগুলো মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে রোগীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের নিবন্ধন করছে কিংবা চুরি করা পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জালিয়াতি শুধু করদাতাদের অর্থের অপচয়ই নয়, বরং প্রকৃতভাবে জীবনসায়াহ্নে থাকা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।
এই তদন্তে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দপ্তর যৌথভাবে কাজ করছে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার ও অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফেডারেল কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি কোনোভাবেই “ভিকটিমবিহীন অপরাধ” নয়। কারণ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা প্রতিটি ডলার প্রকৃত রোগীদের চিকিৎসা ও সেবার সুযোগ কমিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ করদাতাদের।