নয়াদিল্লি/ঢাকা, ৯ জুন ২০২৬: বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া অস্ট্রেলীয় উদ্যোক্তা এবং এয়ারট্রাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রবিন খুদা ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ডাটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা) বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামোর বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ৫ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রবিন খুদা। ওই বৈঠকের পর এয়ারট্রাঙ্ক ভারতজুড়ে পাঁচ গিগাওয়াট পর্যন্ত ডাটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় তিন গিগাওয়াটের অবকাঠামো নির্মিত হবে মহারাষ্ট্রে। ইতোমধ্যে মুম্বাইয়ের রায়গড় জেলায় জমি কেনার জন্য চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর ফলে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা রবিন খুদা রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এয়ারট্রাঙ্ক, যা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, হংকং, মালয়েশিয়া এবং ভারতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, রবিন খুদার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
ফোর্বস এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রবিন খুদা বলেন, “ভারত বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি বাজারের একটি, যেখানে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল ভবিষ্যৎ চাহিদার সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি ভারতের জনসংখ্যা, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে এই বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে, বাংলাদেশে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একজন উদ্যোক্তা কেন নিজের জন্মভূমির পরিবর্তে ভারতে এত বড় বিনিয়োগ করছেন?
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এর উত্তর ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। বৃহৎ পরিসরের বিদ্যুৎ সরবরাহ, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ, বৈশ্বিক ক্লাউড সেবাদাতাদের উপস্থিতি এবং পরিপক্ব ডাটা সেন্টার ইকোসিস্টেমের কারণে ভারত বর্তমানে হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টার বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিজিটাল রূপান্তরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও বাংলাদেশ এখনও ডাটা সেন্টার খাতে একটি উদীয়মান বাজার। বিদ্যুৎ অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালায় আরও উন্নতি ঘটলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশও বড় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এয়ারট্রাঙ্কের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যেখানে বাজারের আকার ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।