ঢাকা, ২১ মে ২০২৬: পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে পরিবহন ব্যয় ও দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার কষ্টকে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকরা অত্যন্ত কষ্ট করে দুর্গম পথ অতিক্রম করে বাজারে পণ্য নিয়ে আসেন। তাই পণ্যের মূল্য নির্ধারণের সময় পরিবহন খরচ ও তাদের অতিরিক্ত শ্রমের বিষয়টি যুক্ত করে উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) আয়োজিত “পার্বত্য চট্টগ্রামের পল্লী অঞ্চলের কৃষি পণ্যের সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ক প্রকল্প” শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ফল ও সবজি বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রকল্পটি অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন, বড় পরিসরে বাস্তবায়নের আগে বার্ড এটি একটি পাইলট গবেষণা হিসেবে শুরু করছে, যা বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন আশা প্রকাশ করেন, সমবায়ভিত্তিক কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বার্ডের মহাপরিচালক সাইফউদ্দীন আহমেদ প্রকল্পের সার্বিক ধারণা উপস্থাপন করেন এবং পরিচালক ফৌজিয়া নাসরিন সুলতানা মূল ধারণাপত্র তুলে ধরেন।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিপণ্যের ফসল-পরবর্তী ক্ষতি কমানো, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের একটি টেকসই মডেল গড়ে তোলাই প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
এ প্রকল্পের আওতায় ব্লকচেইনভিত্তিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কৃষিপণ্যের স্বচ্ছ বাজারব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া ৯৫০ জন কৃষককে জৈব কৃষি ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং ৫০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে সমবায়ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হবে।
এছাড়া কৃষকদের সঞ্চয়ভিত্তিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সমিতিভিত্তিক সঞ্চয় সহায়তা এবং জীবনমান উন্নয়নমূলক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠার গবেষণা প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভবিষ্যতে পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা প্রকল্পটিকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আধুনিক ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।