ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনের মধ্যে বুধবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঢাকায় আজ বৃষ্টির পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্ষাকালের শেষ প্রান্তে এই আবহাওয়ার একদিকে যেমন শহরে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আছে, অন্যদিকে আউশ ধান কাটা ও আমান রোপণের মৌসুমে কৃষকদের জন্যও এটি সিদ্ধান্তের বিষয়।
আজ ঢাকায় কি বৃষ্টি হবে?
ঢাকাটাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে এবং এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এ ছাড়া দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
কোন বিভাগে কতটুকু বৃষ্টি
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল:
- রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
- রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।
তাপপ্রবাহ কি কমছে?
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ ঢাকা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী, চাঁদপুর, ফেনী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু এলাকা থেকে এই তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে। গত কয়েক দিন ধরে এই তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়ে গিয়েছিল।
তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বৃষ্টির পর আর্দ্রতা বাড়লে শারীরিক অস্বস্তি থেকে যেতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে। বজ্রবৃষ্টির সময় বাইরে থাকা মানুষের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শহরবাসী ও কৃষকের জন্য যা মানে
বর্ষাকালের শেষ প্রান্তে এ ধরনের আবহাওয়া বাংলাদেশের জন্য স্বাভাবিক হলেও ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির মিলিত প্রভাব জনস্বাস্থ্য ও কৃষিকাজের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। শহুরে এলাকায় হালকা বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে আউশ ধান কাটাই ও আমান রোপণের সময় কৃষকরা এই অনিশ্চিত আবহাওয়ায় সতর্কভাব অবলম্বন করছেন।
কৃষকদের জন্য পরামর্শ হলো, বৃষ্টির ব্যবধানে কাটাই-রোপণির কাজ সম্পন্ন করা এবং বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা মাঠে থাকা থেকে বিরত থাকা। মৌসুমের মোড়ে আবহাওয়া দ্রুত বদলায়, তাই নাগরিকদের সরকারি পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় মৃদু তাপপ্রবাহ আসলেই প্রশমিত হবে কি না এবং ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস থাকা রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে কতটা বৃষ্টি হবে—তা জানা যাবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী হালনাগাদে।