বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের শেষ দুই ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতলে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠতে পারে সফরকারীরা। এ তথ্য জানিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড।
বোর্ডের ওয়েবসাইট windiescricket.com ঢাকা ডেটলাইনে জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে খেলেই এই চক্রের ম্যাচগুলো শেষ করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রায় ৫০০ দিন আগে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলে তৃতীয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অভিযান শুরু করেছিল দলটি।
এই প্রতিবেদনের সব তথ্য এসেছে শুধু সফরকারী দলের বোর্ড থেকে। বাংলাদেশ দল, ভেন্যু কিংবা ম্যাচের তারিখ নিয়ে বোর্ডের প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।
আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিং ও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট টেবিলে কতটা উঠতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ?
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের হিসাবে, ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠবে দলটি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও ষষ্ঠ হয়ে চক্র শেষ করার সম্ভাবনা আছে। তবে সেটি চক্রের বাকি অংশে অন্য দলগুলোর ফলের ওপর নির্ভর করবে। সেই ফলগুলো কী হতে হবে, বোর্ড তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি।
দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি, অধিনায়ক রোস্টন চেজ। বোর্ড জানিয়েছে, স্যামি দলের ভেতরের পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আর ব্যাটিংয়ে দলের ঘুরে দাঁড়ানোয় সন্তুষ্ট চেজ। তবে প্রতিবেদনে তাঁদের কোনো সরাসরি উক্তি প্রকাশ করা হয়নি।
১৯৯৪ সালের পর প্রথম ‘সিরিজ না হারার’ বছর?
২০২৬ সালে এখনো কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে সাফল্য পেয়েছে তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ত্রিনিদাদে সিরিজ ড্র হয়েছে ১-১ ব্যবধানে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সিরিজ জিতলে দুটি রেকর্ড ছুঁতে পারবে দলটি:
- ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবার একটি পঞ্জিকাবর্ষে কোনো টেস্ট সিরিজ না হারা
- ২০১২–১৩ মৌসুমের পর প্রথমবার টানা তিন সিরিজে অপরাজিত থাকা
রোস্টন চেজ, শাই হোপ: ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান আসছে কাদের ব্যাট থেকে
বোর্ডের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে বড় উন্নতি হয়েছে। দলটি এবার নয়টি টেস্ট সেঞ্চুরি করেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের চক্রে সেঞ্চুরি ছিল মাত্র দুটি। নয়টির মধ্যে পাঁচটি এসেছে প্রতিপক্ষের সংগ্রহের জবাব দিতে গিয়ে।
প্রথম ইনিংসে উইকেটপ্রতি গড় রান এখন ৩০, আগের চক্রে যা ছিল ২৩.৫। বোর্ড আরও জানিয়েছে, দলের ‘সামগ্রিক ব্যাটিং শতাংশ’ ২১ থেকে বেড়ে ২৫.৮ হয়েছে। তবে এই সূচক কীভাবে মাপা হয়, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি।
উদ্বোধনী জুটিতেও উন্নতি স্পষ্ট। এই চক্রে প্রথম উইকেটে দুটি শতরানের জুটি হয়েছে, আগের চক্রে একটিও হয়নি। উদ্বোধনী জুটির গড় ১৯.৮ থেকে বেড়ে ৩২.৮ হয়েছে।
- জাস্টিন গ্রিভস: ৭৯২ রান, গড় ৪০.৭৮। দুটি ম্যাচ বাঁচানো সেঞ্চুরি আছে, যার একটি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে করা ডাবল সেঞ্চুরি।
- শাই হোপ: ৭৭৫ রান, গড় ৩৭.৭১। তিনটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি।
- জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং: দুই ওপেনারের মিলিত রান ১,০৪৪।
- রোস্টন চেজ ও আমির জাঙ্গু: অ্যান্টিগায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুজনই ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি করেছেন।
উইকেটের ভার জোসেফ-সিলসের কাঁধে
বোলিংয়ে দলের মূল ভরসা দুই পেসার জেইডেন সিলস ও শামার জোসেফ। এই চক্রে দুজন মিলে নিয়েছেন ৭০ উইকেট। জোসেফের ৩৫ উইকেট এসেছে ২২.১১ গড়ে। সিলসের বোলিং গড় ৩৩.৫১।
ব্যাটিংয়ে শীর্ষে থাকা গ্রিভস বল হাতেও নিয়েছেন ২৫ উইকেট। অভিজ্ঞ পেসার কেমার রোচের উইকেট ২০টি।
সফরের পূর্ণাঙ্গ দল এখনো প্রকাশ করেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ড। প্রথম টেস্ট কবে, কোন মাঠে, সে তথ্যও প্রতিবেদনে নেই।