ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৯৯ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.২ ওভারে পেরিয়ে ছয় উইকেটে জিতেছে ভারত। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে তারা।
ভারত জয় পেয়েছে ৪০ বল হাতে রেখে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, প্রথম ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ১১৮ রান তুলেছে ভারত। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের এটিই পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ রান।
রেকর্ডের পাশাপাশি এই ম্যাচ নিয়ে আরেকটি আলোচনাও শুরু হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি ভারতের শক্তির প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি ছোট বাউন্ডারি, ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট আর বোলারদের জন্য ভেজা বলের কথাও তুলেছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এমন বড় রানের পেছনে কন্ডিশনের ভূমিকা কতটা।
অভিষেক শর্মা ৩৮ বলে ১১৩, সঙ্গে বৈভব সূর্যবংশীর ঝড়
ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেয় উদ্বোধনী জুটি। অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ৭.১ ওভারে ১৩৩ রান যোগ করেন।
অভিষেক ৩৮ বলে ১১৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা। টাইমস অব ইন্ডিয়া যাঁকে "টিনএজ সেনসেশন" বলেছে, সেই সূর্যবংশী ১৯ বলে করেন ৪৫ রান।
প্রতিবেদনটিতে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে "দুর্বল" বা "ঘাটতিপূর্ণ" বলা হয়েছে। তবে কেন এমন বলা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। বোলারদের পরিসংখ্যান বা ভারতের চারটি উইকেট কীভাবে পড়েছে, সে তথ্যও দেওয়া হয়নি।
পাওয়ারপ্লেতে রেকর্ড ১১৮ রান: আগের রেকর্ডগুলো কার ছিল?
টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এর আগে পাওয়ারপ্লের মানদণ্ড ছিল রোমানিয়ার। ২০২১ সালে সার্বিয়ার বিপক্ষে বিনা উইকেটে ১১৬ রান তুলেছিল দলটি। এই ইনিংসে ভারত দ্রুত রান তোলার আরও কয়েকটি রেকর্ডের পাশে নিজেদের নাম লিখিয়েছে:
- ২.২ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ: পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম দলীয় পঞ্চাশের রেকর্ড ছুঁয়েছে ভারত। এর আগে পাপুয়া নিউগিনি ভানুয়াতুর বিপক্ষে এবং রোমানিয়া সার্বিয়ার বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েছিল।
- ৫ ওভারে ১০০ রান: পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম দলীয় শতক। শীর্ষে আছে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে মোজাম্বিকের বিপক্ষে এসওয়াতিনির ইনিংস।
- ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ১১৮ রান: পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ।
উল্লেখ্য, দ্রুত শুরুর আগের সব রেকর্ডই ছিল সহযোগী সদস্য দেশগুলোর দখলে।
ড্যারেন স্যামি ভারত নিয়ে কী বললেন
ভারতের এই ব্যাটিং দেখে এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান স্যামি। তিনি লেখেন, "ওয়াও… এ কারণেই ভারতে আমার দল যা অর্জন করেছে, তার প্রশংসা করেছিলাম। ভারত একটি বিপজ্জনক দল।"
একই পোস্টে তিনি তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন:
- ছোট বাউন্ডারি
- ব্যাটিং স্বর্গ উইকেট
- বোলারদের জন্য ভেজা বল
এগুলো স্যামির নিজস্ব মত। মাঠের বাউন্ডারির দৈর্ঘ্য বা উইকেটের আচরণ নিয়ে কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই, তাই তাঁর দাবি যাচাই করা যায়নি।
ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ২-২ ড্র কেন স্যামির কাছে বড় অর্জন
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার আগে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের সঙ্গে ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বেঙ্গালুরুতে নির্ধারিত পঞ্চম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ভারতকে "দুবারের বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন" হিসেবে উল্লেখ করেছে। এমন দলের মাঠে গিয়ে ড্র করাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্যামি। তাঁর মতে, এই সিরিজের পর তাঁর দল "বিশাল এক ধাপ" এগিয়েছে।
পরিত্যক্ত পঞ্চম ম্যাচের পর স্যামি বলেছিলেন, "এটা সব দল কেমন খেলেছে, বিশেষ করে আমাদের ছেলেরা, তারই সত্যিকারের প্রতিফলন।"
"আমি নিশ্চিত, সিরিজ শুরুর সময় হয়তো আমাদের কোনো সুযোগই ছিল না। তবে সেটা ছিল কেবল অন্যদের মত।" — ড্যারেন স্যামি
তিনি আরও বলেন, "আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলেছি, তাদের সমানে সমানে লড়েছি, আর কিছু জায়গায় তাদের ছাপিয়েও গেছি, বিশেষ করে তাদের নিজেদের মাঠে।"
ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে সেই ম্যাচগুলোর তারিখ ও ভেন্যু উল্লেখ করা হয়নি।