আগামী মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ইসরায়েল নির্বাচন ২০২৬। ভোটের দুই দিন আগে জনমত জরিপে এগিয়ে আছে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যপন্থী দল ইয়াশার।
দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অবস্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জায়গায় পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার এখন আইজেনকোট। ভোট হবে ইসরায়েলের ২৬তম সংসদ নেসেটের জন্য।
তবে প্রধানমন্ত্রী বদলালেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত আইজেনকোটের কর্মসূচিতে নেই। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী। তিনি ১৮ মাসের মধ্যে হামাসের সামরিক শাখা ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং গাজায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা করিডর বহাল রাখতে চান।
ইসরায়েল নির্বাচনের জরিপে কী দেখা যাচ্ছে
জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইয়াশার প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ২৫তম নেসেটে দলটির কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এক বছরের মধ্যেই দলটি জরিপে শীর্ষে উঠে এসেছে। জরিপের পূর্বাভাস বলছে, দলটি ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে।
প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ বা অন্য দলগুলোর জরিপের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ইয়াশার এই আসন নিয়ে জোট সরকার গড়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারবে কি না, কিংবা কোন দলগুলোর সঙ্গে জোট বাঁধবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোট কেন সরকার ছেড়েছিলেন
আইজেনকোট রাজনীতিতে আসেন ২০২২ সালের আগস্টে, বেনি গান্তজের ন্যাশনাল ইউনিটি জোটের তালিকায় তৃতীয় স্থান নিয়ে। ওই জোটে ছিল গান্তজের ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা'আরের নিউ হোপ।
শুরুতে তিনি নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামলার পর তিনি ও গান্তজ জরুরি সরকারে যোগ দেন। গান্তজ যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য হন, আইজেনকোট ছিলেন পর্যবেক্ষক।
২০২৪ সালের জুনে দুজনই সরকার ছাড়েন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইজেনকোট ন্যাশনাল ইউনিটি ছাড়েন এবং নেসেট থেকেও পদত্যাগ করেন। কারণ হিসেবে তিনি দলের প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনের কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তিনি যে অভ্যন্তরীণ সংস্কার চেয়েছিলেন, ন্যাশনাল ইউনিটি তা বাস্তবায়ন করেনি। এর দুই মাস পর সাবেক রাজনীতিক, জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও অন্য পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি ইয়াশার গড়েন।
আইজেনকোট কি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র সমর্থন করেন?
না। জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, আইজেনকোট ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছেন। তবে পত্রিকাটিকে তিনি বলেছেন, বিকল্প যদি শুধু এই দুটি হয়, তাহলে হামাসের শাসন চলতে থাকার চেয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে তিনি শ্রেয় মনে করবেন।
গাজা নিয়ে দলটির ঘোষিত নীতি হলো হামাসকে সরিয়ে বিকল্প শাসন আনা এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলি নিরাপত্তা করিডর বহাল রাখা। আংশিক নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধাপে ধাপে পুনর্গঠন এগোতে দেবেন আইজেনকোট। এই পরিকল্পনা বাস্তবে কীভাবে কাজ করবে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদনে নেই।
পশ্চিম তীরের বসতি প্রসঙ্গে তিনি পত্রিকাটিকে বলেছেন, সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দায়িত্ব আবার সামরিক সমন্বয়ের অধীনে ফেরাবেন। পশ্চিম তীরে পুলিশি কার্যক্রমের সামরিক সমন্বয়ও পুনর্বহাল করবেন।
দলটির পররাষ্ট্রনীতির অন্য প্রধান দিকগুলো হলো:
- ইরান: পারমাণবিক হুমকির টেকসই ও যাচাইযোগ্য সমাধান। কূটনীতি ব্যর্থ হলে অবশিষ্ট সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থাপনার চারপাশে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে বিধিনিষেধ কার্যকর করা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিরুদ্ধে গোপন অভিযান বাড়ানো।
- লেবানন: একটি নিরাপত্তা অঞ্চল রাখা এবং হিজবুল্লাহর মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের আরও সক্রিয় সম্পৃক্ততা।
হারেদি সেনাসেবা ও সৈনিকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব
দেশের ভেতরে ইয়াশারের কর্মসূচি তিনটি বিষয় ঘিরে: সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতায় সংস্কার, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং কর্মজীবী মানুষ, তরুণ ও সেনাসেবায় যুক্তদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা। দলের প্রার্থী ও অর্থনীতিবিদ শাউল মেরিডর অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে রেখেছেন "কর্মজীবী মধ্যবিত্ত, তরুণ ও সেবাদানকারী মানুষদের"।
দলটির সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থান হলো অতি-গোঁড়া হারেদি সম্প্রদায়ের ঢালাও সেনাসেবা অব্যাহতির বিরোধিতা। আইজেনকোট সেবা এড়ালে নিষেধাজ্ঞা আর সেবা দিলে সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে প্রতি বছরের হারেদি তরুণদের ৩ শতাংশকে তোরাহ অধ্যয়নের জন্য সীমিত অব্যাহতি দিতে চান তিনি।
জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, কোনো অব্যাহতিই না দেওয়ার পক্ষে থাকা বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই ছাড়ের সমালোচনা করেছেন। সেপ্টেম্বরে ঘোষিত দলের যুব পরিকল্পনায় বাধ্যতামূলক সেবায় থাকা সৈনিকদের বেতন ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তৃতীয় বর্ষের যুদ্ধসৈনিকদের বেতন বাড়বে ৫০ শতাংশ।
ভোটের পর জোট গঠনের দর-কষাকষিতে ৩ শতাংশের এই অব্যাহতি টিকবে কি না, সেটিও এখনো অনিশ্চিত।