ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। একই সিরিজে দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরে ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাইনালে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩৫তম ওভারে জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। ইব্রাহিম জাদরান ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি ছিল হতাশার। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে এবং পরের ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে যায় দলটি। অন্যদিকে ২০২৭ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের এক বছরও বাকি নেই। এমন সময়ে রাশিদ খানের সঙ্গে বিলাল সামির মতো তরুণদের নিয়ে আফগানিস্তান ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে।
বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজে কেমন খেলেছে?
সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, ক্রেইগ আরভিনের ৯৩ ও ব্রেন্ডন টেলরের ৮১ রানে ভর করে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারায় জিম্বাবুয়ে।
পরের দুই ম্যাচে আফগানিস্তান জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে এবং বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারায়। এই দুই জয়েই ফাইনাল নিশ্চিত হয় আফগানদের। দুই ম্যাচের কোনোটিতেই না জেতায় ফাইনালের আগেই সিরিজ শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের দুই হারের পূর্ণ স্কোরকার্ড, খেলোয়াড় বা টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতিক্রিয়া এবং দলের পরবর্তী সূচি গবেষণায় পাওয়া তথ্যে উল্লেখ নেই।
আফগানিস্তান জিম্বাবুয়ে ফাইনাল: শুরুতেই চাপে চেভরনরা
ফাইনালে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সিকান্দার রাজা। তবে ফজলহক ফারুকি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের শুরুর স্পেলে সপ্তম ওভারে ৩ উইকেটে ২৬ রানে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে।
অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলরকে ৯ রানে ফেরান বিলাল সামি। এরপর রাজা ও রায়ান বার্ল ৬০ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।
দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে, ২৭তম ওভারে মোহাম্মদ নবির বলে বিলালের হাতে ক্যাচ দিয়ে বার্ল ৩১ রানে ফিরলে জিম্বাবুয়ের ইনিংস ভেঙে পড়ে। রাশিদ খান ও নবি মিলে নিচের সারির ব্যাটারদের দ্রুত ফেরান। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন রাজা।
রাশিদ খান উইকেট নিলেন কতটি?
ফাইনালে আফগানিস্তানের সেরা বোলার ছিলেন রাশিদ খান। ৪১ রান দিয়ে তিনি ৩ উইকেট নেন। বাকি বোলারদের হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
- বিলাল সামি: ২৭ রানে ২ উইকেট
- ফজলহক ফারুকি: ৪১ রানে ২ উইকেট
- মোহাম্মদ নবি: ২৫ রানে ২ উইকেট
ফাইনালের আগের দুই জয়ে রাশিদ নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। সেই হিসাবে সিরিজে তাঁর মোট উইকেট ১১টি।
ইব্রাহিম জাদরানের অপরাজিত ৭০-এ সহজ রান তাড়া
১৭০ রানের লক্ষ্যে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ইব্রাহিম জাদরান। অন্য প্রান্তে রহমানউল্লাহ গুরবাজও দ্রুত রান তোলেন। দশম ওভারে দলীয় ৬৮ রানে আউট হন গুরবাজ।
১১ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে জিম্বাবুয়ের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে মাত্র ৩০ রান দেন এবং সেদিকউল্লাহ আতালকে (৬) ফেরান। তবে দ্য ডেইলি স্টারের তথ্যমতে, প্রয়োজনীয় রানরেট দুইয়ের কাছাকাছি থাকায় আফগান ব্যাটারদের তাড়াহুড়ার প্রয়োজন ছিল না।
অধিনায়ক রহমত শাহ জাদরানের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে লক্ষ্যের কাছে নিয়ে যান। ২৭তম ওভারে রাজার বলে দুটি বাউন্ডারি আসে। ওয়েসলি মাধেভেরে ৪৩ রানে রহমতকে আউট করলেও ৩৫তম ওভারে জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আফগানিস্তান বিলাল সামি ও আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফরের মতো তরুণদেরও সুযোগ দিচ্ছে।
এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। সব ম্যাচ হবে শারজায়:
- ২৭ অক্টোবর: প্রথম টি-টোয়েন্টি
- ২৯ অক্টোবর: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
- ১ নভেম্বর: তৃতীয় টি-টোয়েন্টি
- ৫-৯ নভেম্বর: প্রথম টেস্ট
- ১৩-১৭ নভেম্বর: দ্বিতীয় টেস্ট
এই সফরে বাংলাদেশ আফগানিস্তান বা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আর কোনো ম্যাচ খেলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।