আর্কাইভ ভিডিও ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ
● ভুবনেশ্বর কুমার বাদ ৪র্থ টি২০আই নিউজিল্যান্ডে, ময়ঙ্ক যাদভের তিন উইকেট ডেবিউ ● নিউইয়র্কে ১৪৯ ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদের সংবর্ধনা ও ডিনার ● ট্রাম্প সমাবেশ বাতিল: কানসাস-আইওয়ার বদলে ফোনে প্রচার, ভোটের আগে নানা প্রশ্ন ● বাংলাদেশ বনাম স্কটল্যান্ড হংকং সিক্সেস: শেষ বলের ছক্কায় হারল রনির দল ● মুমিনুলের কনকাশন, ৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর ব্যাটিংয়ে জাকের আলী অনিক ● মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬: কানাডার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ, প্রচারে শুল্কবিরোধ ● মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬: কানসাস-আইওয়ার সমাবেশ বাদ দিয়ে টেলিসমাবেশে ট্রাম্প ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ: ২-০ জিতলে র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে উঠতে পারে ক্যারিবীয়রা ● ভুবনেশ্বর কুমার বাদ ৪র্থ টি২০আই নিউজিল্যান্ডে, ময়ঙ্ক যাদভের তিন উইকেট ডেবিউ ● নিউইয়র্কে ১৪৯ ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদের সংবর্ধনা ও ডিনার ● ট্রাম্প সমাবেশ বাতিল: কানসাস-আইওয়ার বদলে ফোনে প্রচার, ভোটের আগে নানা প্রশ্ন ● বাংলাদেশ বনাম স্কটল্যান্ড হংকং সিক্সেস: শেষ বলের ছক্কায় হারল রনির দল ● মুমিনুলের কনকাশন, ৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর ব্যাটিংয়ে জাকের আলী অনিক ● মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬: কানাডার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ, প্রচারে শুল্কবিরোধ ● মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬: কানসাস-আইওয়ার সমাবেশ বাদ দিয়ে টেলিসমাবেশে ট্রাম্প ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ: ২-০ জিতলে র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে উঠতে পারে ক্যারিবীয়রা
যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ শক্তি সংকট: আমদানি নির্ভরতায় রিজার্ভে চাপ, পোশাক শিল্পে উৎপাদনশীলতা কমছে ২৫–৩০ শতাংশ

US Bangla Tribune Desk
US Bangla Tribune Desk প্রোফাইল দেখুন →

16 Sep 2026, 03:29 AM · হালনাগাদ

44 • 1 min read fb x
সৌর প্যানেলের পাশে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন—বাংলাদেশের শক্তি সংকট ও নবায়নযোগ্য শক্তির সমাধানের প্রতীক

বাংলাদেশের শক্তি সংকট আর কেবল লোডশেডিংয়ের সমস্যা নয়; আমদানি জ্বালানিনির্ভরতা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শুকিয়ে পোশাক রপ্তানি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করছে—দ্য ডেইলি স্টারের এক বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

"Why Bangladesh must pivot to renewable energy now" শিরোনামে প্রকাশিত ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশের ৬০ শতাংশের বেশি শক্তি চাহিদা মেটে আমদানি জ্বালানি দিয়ে। ফলে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর সরবরাহ শৃঙ্খলার ব্যাঘাত সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে আঘাত হানছে।

বিশ্লেষণের মূল যুক্তি স্পষ্ট: নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে সৌর বিদ্যুৎ, বাংলাদেশের জন্য কেবল পরিবেশগত পছন্দ নয়—এটি একটি অর্থনৈতিক সমাধান। চাকরি, জ্বালানি স্বাধীনতা, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়, শিল্প প্রতিযোগিতা আর কৃষি সুরক্ষা—সবই এর সঙ্গে জড়িত।

আমদানির বিল আর রিজার্ভের ওপর চাপ

দ্য ডেইলি স্টারের তথ্য অনুযায়ী, সরকারকে এখন প্রতিদিন ২০০ কোটি টাকারও বেশি শক্তি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বছরে জ্বালানি আমদানিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার—যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুতর চাপ তৈরি করছে।

ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে সরবরাহের কেন্দ্রীকরণ। দেশের এলএনজি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কাতার থেকে; সরবরাহ ব্যাহত হলে দ্রুত তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ মাত্র ৩৫–৪০ দিনের প্রয়োজন মেটাতে পারে, যা চীন ও জাপানের তুলনায় অনেক কম।

গ্যাস সংকটে উৎপাদনে ঘাটতি ১,৫০০–১,৮০০ মেগাওয়াট

বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২,৫০০ এমএমসিএফডির বেশি, কিন্তু সরবরাহ কখনো কখনো নেমে যায় ৮৫০–৯০০ এমএমসিএফডিতে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১,৫০০–১,৮০০ মেগাওয়াট ঘাটতি হতে পারে; সার্বিকভাবে দৈনিক গ্যাস ঘাটতি ১,১০০ এমএমসিএফডির বেশি এবং পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ সংকট প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রধান রপ্তানি খাতে। দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, গ্যাস সংকট আর লোডশেডিংয়ের কারণে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদনশীলতা অনেক ক্ষেত্রে ২৫–৩০ শতাংশ কমে যাচ্ছে—যা রপ্তানি আয় ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রভাব স্পষ্ট। ২০২২ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেওয়া হলেও গ্রামের অনেক এলাকায় গ্রীষ্মে দৈনিক ১০–২০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। জ্বালানি পাম্পে লম্বা লাইন, স্কুলের অনলাইনে চলে যাওয়া আর অফিসের সময় কমানো—এসবকেই বিশ্লেষণে শক্তি অনিরাপত্তার লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ১৫ বছরে বাল্ক ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১০ বারেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে; বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পথ টেকসই নয়।

সৌর বিদ্যুৎ কেন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক

বিশ্লেষণে হিসাব দিয়ে দেখানো হয়েছে:

  • ১ মেগাওয়াট এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ প্রায় ১৯০ কোটি টাকা, যার বড় অংশ যায় বৈদেশিক মুদ্রায়।
  • ৫ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পে এককালীন বিনিয়োগ প্রায় ২৫ কোটি টাকা; এরপর জ্বালানি খরচ কার্যত শূন্য।
  • প্রতি ১ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ বছরে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারে।

একবার স্থাপন করলে সৌর বিদ্যুৎ ১৫–২০ বছর স্থিতিশীল সরবরাহ দিতে পারে—আমদানি জ্বালানি, বৈশ্বিক দাম, ডলারের সরবরাহ আর বারবার ভর্তুকি-ট্যারিফ সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না।

নবায়নযোগ্য শক্তির পথে নীতিগত বাধা

সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তির অবদান মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশেরও কম—অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্য ৩০ শতাংশ। দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য সরঞ্জাম আমদানিতে ৫০–৬০ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হচ্ছে, যা দেশীয় উৎপাদন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে।

আমাদের আগের প্রতিবেদনে এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি বাধা চিহ্নিত করা হয়েছিল—ওজনভিত্তিক কাস্টমস মূল্যায়নের কারণে শুল্ক তিন-চার গুণ বেড়ে যাওয়া, ১০–১২ শতাংশ বা তার বেশি অর্থায়ন ব্যয়, ধীর অনুমোদন প্রক্রিয়া, নেট মিটারিংয়ে বিলম্ব, দুর্বল মার্চেন্ট পাওয়ার নীতি এবং গ্রিড ডিজিটালাইজেশনের অভাব। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ট্রানজ্যাকশন-ভ্যালু পদ্ধতিতে কাস্টমস মূল্যায়ন জরুরি বলে মত দেওয়া হয়।

তুলনামূলক উদাহরণও আছে—ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও চীন শুল্ক অব্যাহতি, কর ছাড় ও সহজ অর্থায়ন দিয়ে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।

বিশ্লেষণে সুপারিশ করা হয়েছে—সৌর সরঞ্জামে আমদানি শুল্ক কমানো, অর্থায়ন সহজ করা, অনুমোদন দ্রুত করা এবং স্পষ্ট, পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা। তবে এসব সুপারিশের প্রতি সরকারের কোনো সাড়া বা নতুন নীতিগত উদ্যোগ এখনো জানা যায়নি।



ধন্যবাদ!

আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর পাঠানো হবে।

নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইমেইলে পান।

যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।