১৮ জুলাই, ২০২৬ (রবিবার), মানিকগঞ্জ — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে "একটি শিশু একটি গাছ" কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় মানিকগঞ্জ সদরের নবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সবুজ বাংলাদেশের অঙ্গীকার
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, "আজ আমরা শুধু একটি কর্মসূচির উদ্বোধন করতে একত্রিত হইনি। আমরা একত্রিত হয়েছি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে। একটি শিশুর হাতে একটি গাছ তুলে দিতে। একটি গাছের মাধ্যমে একটি সুন্দর আগামীর বীজ বপন করতে।"
তিনি আরও বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি আধুনিক, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমরা বিশ্বাস করি, উন্নয়ন শুধু সেতু, সড়ক কিংবা ভবন নির্মাণের নাম নয়। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকে। পরিবেশ নিরাপদ থাকে। মানুষ সচেতন হয়। তাই একটি গাছ লাগানো শুধু একটি চারা রোপণ নয়। এটি একটি অঙ্গীকার। এটি একটি দায়িত্ব। এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উপহার।"
মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বৃক্ষ রোপণ
এসময় মন্ত্রী তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য উপস্থিত মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং মানিকগঞ্জবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলের দোয়া কামনা করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতি
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
"একটি শিশু একটি গাছ" ধারণাটির মূল ভাবনা হলো — প্রতিটি শিশু নিজের হাতে একটি গাছ লাগাবে এবং সেই গাছের যত্ন নেবে। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের বনাঞ্চল ও সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এর তাৎপর্য বিশেষভাবে বেশি।
মন্ত্রীর বক্তৃতায় উন্নয়নের সংজ্ঞাকে অবকাঠামো নির্মাণের ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হয়েছে — সেতু, সড়ক ও ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রকৃতি সুরক্ষিত রাখাকেও উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিশুদের অংশগ্রহণে গাছ লাগানোর কর্মসূচিটি কেবল পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা হিসেবেও গুরুত্ব বহন করে।