ঢাকা, ২৪ জুন: প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মাধ্যমে ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ খুলতে পারবেন, যার মাধ্যমে জমাকৃত অর্থ ও মুনাফা সহজেই বিদেশে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ উপায়ে প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে প্রবাসীরা সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা নির্দিষ্ট মেয়াদি আমানত হিসাব খুলতে পারবেন। এসব হিসাবে রেমিট্যান্স ছাড়াও অন্য অনিবাসী হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা এবং বাংলাদেশে অনুমোদিত বিনিয়োগ বা শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত আয় জমা রাখা যাবে।
এই হিসাবের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো এর পূর্ণ প্রত্যাবাসনযোগ্যতা। অর্থাৎ, অ্যাকাউন্টে থাকা মূল অর্থ এবং অর্জিত মুনাফা যেকোনো সময় কোনো বাধা ছাড়াই বিদেশে পাঠানো যাবে।
এছাড়া হিসাবধারীরা দেশের ভেতরেও এই তহবিল বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, স্থানীয় লেনদেন এবং অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ।
নতুন নীতিমালায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আওতায় বেজা, বেপজা ও বিকেইপিজেডের অধীন ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ সুবিধা পাবে। তবে এসব ঋণ শুধুমাত্র বেতন-ভাতা, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মতো চলতি ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা যাবে এবং রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে তা পরিশোধ করতে হবে।
এছাড়া প্রবাসীরা তাদের হিসাবের স্থিতি জামানত হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে কৃষি, প্ল্যান্টেশন এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগের জন্য এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে না। যদিও আবাসিক সম্পত্তি ক্রয় এবং অ-প্রত্যাবাসনযোগ্য বিনিয়োগে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায়ও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।