ব্রেকিং নিউজ
তৃণমূলে ঈদের আনন্দ ছড়ালেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল: শান্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির হাটহাজারী গড়ার অঙ্গীকার আগামী অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাড়ানোর নীতিগত আলোচনা চুড়ান্ত পর্যায়ে: কত খরচ হবে, অর্থ আসবে কোথা থেকে? বাংলাদেশে হামের টিকা ব্যবস্থাপনায় সংকট: জানা–অজানা বাস্তবতা, ঝুঁকি ও করণীয় ক্লাসরুমের অধ্যাপনা থেকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য নেতৃত্ব: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজিজ রহমানের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা ইমন সাহা: খ্যাতিমান সঙ্গীত পরিচালক থেকে উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতা — ‘Silence’ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ নিচ্ছে ঢাকায় এআই ট্রাফিক ক্যামেরা ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া জরিমানার ফাঁদ, ফিশিং প্রতারণায় সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কা নিউ জার্সিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার নামাজ ও উদযাপন অনুষ্ঠিত আটলান্টিকের পাড়ে বাঙালিয়ানার মহোৎসব: নিউইয়র্কে সাঙ্গ হলো ৩৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, নতুন প্রজন্মের মাঝে শিকড়ের টান তৃণমূলে ঈদের আনন্দ ছড়ালেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল: শান্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির হাটহাজারী গড়ার অঙ্গীকার আগামী অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাড়ানোর নীতিগত আলোচনা চুড়ান্ত পর্যায়ে: কত খরচ হবে, অর্থ আসবে কোথা থেকে? বাংলাদেশে হামের টিকা ব্যবস্থাপনায় সংকট: জানা–অজানা বাস্তবতা, ঝুঁকি ও করণীয় ক্লাসরুমের অধ্যাপনা থেকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য নেতৃত্ব: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজিজ রহমানের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা ইমন সাহা: খ্যাতিমান সঙ্গীত পরিচালক থেকে উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতা — ‘Silence’ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ নিচ্ছে ঢাকায় এআই ট্রাফিক ক্যামেরা ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া জরিমানার ফাঁদ, ফিশিং প্রতারণায় সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কা নিউ জার্সিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার নামাজ ও উদযাপন অনুষ্ঠিত আটলান্টিকের পাড়ে বাঙালিয়ানার মহোৎসব: নিউইয়র্কে সাঙ্গ হলো ৩৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, নতুন প্রজন্মের মাঝে শিকড়ের টান
স্বাস্থ্য

বাংলাদেশে হামের টিকা ব্যবস্থাপনায় সংকট: জানা–অজানা বাস্তবতা, ঝুঁকি ও করণীয়

বাংলাদেশে হামের টিকা ব্যবস্থাপনায় সংকট: জানা–অজানা বাস্তবতা, ঝুঁকি ও করণীয়
বাংলাদেশে হামের টিকা ব্যবস্থাপনায় সংকট: জানা–অজানা বাস্তবতা, ঝুঁকি ও করণীয়

অধ্যাপক ড. সাফি ভূইয়া, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো, কানাডা

অস্থির ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার বদলায়, নেতৃত্ব বদলায়, নীতি পরিবর্তিত হয়, এমনকি রাজনৈতিক অগ্রাধিকারেরও পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কখনো থেমে থাকে না। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি ছোট দুর্বলতাও কখনও কখনও বড় জাতীয় সংকটে রূপ নিতে পারে।

সম্প্রতি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কমিউনিটি অ্যাসেসমেন্ট (Community Assessment) ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশের হামের টিকা সংকট, টিকার ঘাটতি এবং শিশুস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে একটি আলোচনা হয়। সেখানে উঠে আসা কিছু বাস্তব পর্যবেক্ষণ, জনস্বাস্থ্যগত উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়গুলো এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরছি।

১. এক সময়ের সাফল্যের গল্প আজ চ্যালেঞ্জের মুখে

বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (Expanded Programme on Immunization – EPI) একসময় বিশ্বে সফল জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতো। টিকাদানের মাধ্যমে শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও অর্জন করেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা, জনবল সংকট, পরিকল্পনাগত অসামঞ্জস্য এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এই সাফল্যকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

২. প্রকৃত শিশুসংখ্যার নির্ভুল হিসাব: পরিকল্পনার মৌলিক চ্যালেঞ্জ

টিকা পরিকল্পনার ভিত্তি হলো শিশুর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন বিভিন্ন স্থানে (দাদার বাড়ি, নানীর বাড়ি ও নিজের বাপের বাড়িতে) সম্পন্ন হওয়ায় তথ্যের পুনরাবৃত্তি বা অসামঞ্জস্যের ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে টিকার প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ, সরবরাহ পরিকল্পনা এবং ক্রয় ব্যবস্থাপনায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

এখন সময় এসেছে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়ভিত্তিক ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য এবং EPI ডেটাবেজের মধ্যে সমন্বিত সংযোগ (interoperability) গড়ে তোলার।

৩. টিকা সংগ্রহ ও দ্রুত ক্রয়ব্যবস্থা: সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

টিকা সংগ্রহ একটি অত্যন্ত সময়সংবেদনশীল বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (Direct Procurement) দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে, যেখানে দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ ক্রয় প্রক্রিয়া জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তাত্ত্বিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (Open Tender Method) স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, জরুরি টিকাদান পরিস্থিতিতে বিলম্ব বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ—শিশুর বয়স অপেক্ষা করে না, সংক্রামক রোগও অপেক্ষা করে না।

৪. জনবল সংকট: EPI ব্যবস্থার নীরব দুর্বলতা

মাঠপর্যায়ের টিকাদান কার্যক্রমের মূল শক্তি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট (Health Assistant) ও ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত নিয়োগ না হওয়া এবং অবসরের কারণে অনেক এলাকায় জনবল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একজন Health Assistant-এর দায়িত্বে যেখানে ১১৪টি কর্মপরিধি থাকার কথা, সেখানে শূন্যপদের কারণে কার্যত দ্বিগুণ দায়িত্ব বহন করতে হচ্ছে।

ফলে বিদ্যমান কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়েছে—যার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত EPI কার্যক্রম, কোভিড-১৯ টিকাদান, টাইফয়েড ও HPV ক্যাম্পেইনসহ অন্যান্য জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম। একটি কার্যকর টিকাদান ব্যবস্থা শুধু ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করে না; এটি সমানভাবে নির্ভর করে প্রশিক্ষিত, পর্যাপ্ত এবং অনুপ্রাণিত জনবলের ওপর।

৫. কোল্ড-চেইন ব্যবস্থাপনা: কার্যকারিতা নিশ্চিতের অন্যতম শর্ত

হামের টিকা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা (২–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বজায় রাখার মাধ্যমে কার্যকর থাকে। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ সময় টিকাদান সেশন পরিচালনার সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।অনেক ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এতে টিকার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তাছাড়া মাঠপর্যায়ে “ফেরত ভায়েল” ব্যবস্থাও প্রশ্নের জন্ম দেয় যদি একটি EPI সেশন শেষে অব্যবহৃত ভায়েল পরবর্তী সেশনে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যদি সেই টিকার কার্যকারিতা কমে যায়, তাহলে যারা সেই টিকা পাচ্ছে, তাদের শরীরে কি পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে?

এ কারণে কোল্ড-চেইন মনিটরিং, রিয়েল-টাইম তাপমাত্রা ট্র্যাকিং এবং মাঠপর্যায়ে মাননিয়ন্ত্রণ জোরদার করা জরুরি। টিকা শুধু প্রাপ্য হলেই হবে না—তার কার্যকারিতাও নিশ্চিত করতে হবে।

৬. ২০ শতাংশ ঘাটতি মানেই ভবিষ্যতের ঝুঁকি

যদি জাতীয় টিকাদান কভারেজ আনুমানিক ৮০ শতাংশ হয়, তাহলে প্রতিবছর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে এই সংবেদনশীল জনগোষ্ঠী জমা হতে থাকে এবং একসময় বড় আকারের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি তৈরি করে। টিকা দেরিতে এলে শিশুর বয়স অপেক্ষা করে না, রোগও অপেক্ষা করে না।

এ কারণেই অনেক দেশে নির্দিষ্ট সময় অন্তর হাম-রুবেলা (Measles-Rubella বা MR) ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশেও নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন, catch-up campaign এবং টিকাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী শনাক্তকরণ জরুরি।

৭. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা নিয়েও ভাবতে হবে

আজকের টিকাবঞ্চিত বা আংশিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত শিশুরাই আগামী দিনের অভিভাবক। জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানের আলোকে জানা যায়, জন্মের পর প্রথম দিকে শিশুর কিছু রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডির মাধ্যমে আসে।

অতএব, যদি একটি জনগোষ্ঠীতে দীর্ঘমেয়াদে টিকাদান কভারেজ দুর্বল হয়, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে—যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ।

৮. দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার সমন্বয় প্রয়োজন

পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম স্থানীয় সরকার কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হলেও, রোগ ব্যবস্থাপনা ও হাসপাতালসেবা স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর নির্ভরশীল।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন আসে—চাহিদা নিরূপণ, কভারেজ, সংরক্ষণ, কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সমন্বিত নেতৃত্ব কোথায়? এখন সময় এসেছে একটি শক্তিশালী সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা কাঠামো গড়ে তোলার।

৯. এখনই সময় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার

শিশু পুষ্টি, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন (Vitamin A Supplementation), নিয়মিত টিকাদান, নজরদারি ব্যবস্থা, কোল্ড-চেইন শক্তিশালীকরণ এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ—সবকিছু একটি সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হওয়া প্রয়োজন।

আজ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত: বাংলাদেশ কি ভবিষ্যতে পোলিও, ডিপথেরিয়া বা টিটেনাসের পুনরুত্থানের ঝুঁকির দিকে এগোচ্ছে, নাকি আমরা এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করব?

সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাই হামের বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সংকট হিসেবে না দেখে—জাতীয় টিকাদান ব্যবস্থা, জনবল, নজরদারি এবং জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

এখনই সময় সমন্বিত, তথ্যভিত্তিক ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার। কারণ জনস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কোনো ব্যয় নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাতির টেকসই অগ্রগতির সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

সম্পর্কিত সংবাদ

Advertisement

Advertisement


ধন্যবাদ!

আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর পাঠানো হবে।

নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইমেইলে পান।

যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।