ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডার লায়েন বুধবারের দিন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তাদের বার্ষিক 'স্টেট অফ দি ইউনিয়ন' বক্তব্যে কানাডাকে ব্লকের প্রথম 'অ্যাসোসিয়েট সদস্য' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে মতামত প্রকাশ করেছেন। স্ট্রাসবर्गে অনুষ্ঠিত এই সভায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি উপস্থিত ছিলেন, যিনি পরের দিন পার্লামেন্টকে संবোধন করতে নির্ধারিত। বিবিসি অনুযায়ী, এই প্রস্তাবটি দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান সিইটিএ চুক্তির চেয়ে कहीं বেশি গভীর ও কৌশলগত সाझेদারির সূচনা করবে।
কেন এখন এই প্রস্তাব
কানাডা-আমেরিকা সম্পর্ক বর্তমানে চরম তনাবের दौर থেকে गुजরছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন শুল্ক ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়েছে। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে '৫১তম রাজ্য' বলতে থাকেন, যা উত্তর আমেরিকার এই দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। ভন ডার লায়েন আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে নাম लिये বিনাই বলেছেন, কানাডাকে এই ধরনের সদস্যতা দেয়া 'কারো বিরুদ্ধে কোনো গঠবন্ধন নয়, বরং আমাদের সाझা শক্তির জন্য'। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, 'সাঝेদারিতা ইউরোপের জন্য একটি কৌশলগত পছন্দ। কিন্তু এটি আন্তর্জাতিক নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থার ভাঙনপ্রতিক্রিয়াও।'
সহযোগিতার মূল খাতসমূহ
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উভয় দেশের সাঝা মূল্যবোধের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন—ইউক্রেন, রক্ষানীতি, কাঁচামাল ও সরবরাহ শৃঙ্খলা সহ প্রজातন্ত্রে আস্থা। তিনি কনস্ট্রাকশন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রক্ষা, শক্তি, জরুরি খনিজ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সাতটি খাত চিহ্নিত করেছেন যেখানে এই নতুন গঠবন্ধন কাজ করবে। বর্তমানে সিইটিএ (Comprehensive Economic Trade Agreement) এর মাধ্যমে ৯৯% পণ্য নির্যাত শুল্কমুক্ত। ভন ডার লায়েনের কথায়, 'আমরা সিইটিএ থেকে "অ্যালায়েন্স ফর দি ফিউচার"-এ যাব, যাতে একটি সाझা সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার স্থান সৃষ্টি হয়।'
ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবও
এই বক্তব্যে ভন ডার লায়েন একটি 'ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ' গঠনের প্রস্তাবও রেখেছেন, যার সদস্য হতে পারেন যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেন সহ অন্যান্য দেশ। রাশিয়া থেকে চলমান হুমকির প্রেক্ষাপটে তিনি এটিকে 'অত্যন্ত জরুরি' বলেছেন। কানাডা, নরওয়ে ও অন্যান্য অংশীদারদের এই ফরামে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া জীবনব্যয় বেড়ানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবগুলোকে আলোচনার আহ্বান, ব্যবসায়ের জন্য লালফিতা কমানো, ভিস्थাপন সংকট মোকাবিলার জরুরি সরঞ্জাম ও ১৩ বছরের নিচে বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার মতো অভ্যন্তরীণ নীতিগত প্রস্তাবও রেখেছেন।
কানাডা ও দক্ষিণ এশিয়া প্রেক্ষাপটে তাৎপর্য
কানাডার জন্য এই প্রস্তাব আমেরিকান বাজারের উপর নির্ভরতা কমাতে একটি কৌশলগত বিকল্প। বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশিয়ান প্রবাসী সমূহের বড় অংশ কানাডায় বসবাস করে; যেকোনো বাণিজ্য ও আয়কর নীতিতে পরিবর্তন তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ও প্রবাসী অর্থপ্রেরণাকে প্রভাবিত করতে পারে। 더불어, ইউরোপের সাথে ঘনিষ্ঠতা কানাডাকে বড় বাজার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জরুরি খনিজ সুরক্ষায় সুবিধা দেবে—যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করবে।
"ইউরোপ ও কানাডা বিশ্বকে একই চোখে দেখে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূ-রাজনীতির বিষয়ে।" — উর্সুলা ভন ডার লায়েন, ইউরোপীয় কমিশন প্রেসিডেন্ট
প্রস্তাবটি এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও সদস্য রাষ্ট্র들의 অনুমোদনের بانتظار। কার্নির স্ট্রাসবর্গ যাত্রা ও এই ঘোষণা উভয় পক্ষের নতুন কৌশলগত দিক পরিবর্তনের স্পষ্ট সংকেত, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় খুলতে পারে।