যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশ; আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসে যা ছিল ৩.৪ শতাংশ। বুধবার প্রকাশিত সরকারি এ তথ্য পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি, জানিয়েছে বিবিসি।
তথ্যটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই মূল্যস্ফীতির শেষ প্রকাশ। দেশজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েই এবারের নির্বাচনী লড়াই হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বাড়ার মূল কারণ পেট্রলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে পাম্পের দামে।
ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি পরিমাপ করে। এতে তাজা খাদ্য, পেট্রল ও চিকিৎসাসেবাসহ কয়েকশ নিত্যপণ্যের দামের পরিবর্তন অনুসরণ করা হয়; মানুষের খরচের ধরন বদলালে এ পণ্যতালিকাও সময়ে সময়ে ঝুঁজি দেওয়া হয়।
পেট্রলের দাম বৃদ্ধিই অর্ধেকের বেশি অবদান
ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের হিসাবে, ১২ মাসে যানবাহনের জ্বালানির দাম বেড়েছে ৩৪.২ শতাংশ। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই বৃদ্ধি ৯.১ শতাংশ—মোট মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অর্ধেকের বেশি এসেছে এই খাত থেকেই।
সামগ্রিকভাবে বছরে জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি ২০.৪ শতাংশ; ফুয়েল অয়েল, জ্বালানি সেবা ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। ঘর গরম করতে ব্যবহৃত ফুয়েল অয়েলের দাম বছরে বেড়েছে ৭৪.২ শতাংশ।
সংঘাতের আগে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের কিছু বেশি; যুদ্ধে সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় দাম দ্রুত বেড়ে এখন ১০০ ডলারের ওপরে। পেট্রল ও ডিজেল তৈরি হয় এই অপরিশোধিত তেল থেকেই।
তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো শান্ত—সেপ্টেম্বরে তা স্থির ছিল এবং বছরজুড়ে ২.৫ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি বাদে মূল মূল্যস্ফীতি ২.৬ শতাংশ।
সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট ২০২৭ সালে কত বাড়বে
মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের কিছু পরেই সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, ২০২৭ সালে বার্ধক্য, উত্তরাধিকার ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সুবিধাগুলো প্রায় একই হারে—৩.৬ শতাংশ—বাড়বে।
এতে গড় অবসর ভাতায় মাসিক বৃদ্ধি হবে ৭৫ ডলার। জানুয়ারি থেকে প্রায় ৭২ মিলিয়ন মানুষ এ সমন্বয়ের আওতায় আসবেন; আর সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকামপ্রাপ্ত ৭.২ মিলিয়ন মানুষের বর্ধিত অর্থ দেওয়া শুরু হবে ৩১ ডিসেম্বর থেকে।
ট্রাম্পের শুল্ক কীভাবে দাম বাড়াচ্ছে
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বেশিরভাগ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপ করেন। ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত বৈশ্বিক শুল্কের বেশিরভাগ অংশ বাতিল করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ১০ শতাংশ নতুন বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেন।
ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, শুল্ক কর আয় বাড়াবে, উৎপাদন গতি পাবে এবং মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্য কিনবে। তবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের গবেষণা বলছে, রপ্তানিকারকরা দাম প্রায় কমাননি; ফলে বর্ধিত শুল্ক-করের প্রায় ৯০ শতাংশ বোঝা বহন করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসাগুলো।
আমদানি পণ্যের ওপর আরোপিত এ শুল্ক সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়ায়, যদি না বিদেশি বিক্রেতারা দাম কমিয়ে তার কিছু অংশ নিজেরা বহন করে। অনেক যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রস্তুতকারক বিদেশি যন্ত্রাংশ বা কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশে তৈরি পণ্যের দামেও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে।
এখন কী দেখবে ফেডারেল রিজার্ভ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার নির্ধারণকারী ফেডারেল রিজার্ভ এখন খেয়াল দেখবে জ্বালানির ব্যয় খাদ্যসহ অর্থনীতির অন্য খাতে ছড়িয়ে পড়ছে কি না। সেই প্রবণতাই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে সুদের হারের গতিপথ—আর নির্বাচনের আগে ভোটারদের পকেটে এর আঘাত কতটা লাগবে, সেটিই এখন প্রশ্ন।