আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমান উদ্বেগগুলিকে 'হোক্স' অর্থাৎ ছলावा বলে উপেক্ষা করেছেন এবং এই প্রযুক্তির জন্য আরও কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল বা 'গার্ডরেল' আনার ডাককে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিবিসি অনুযায়ী, তিনি সোমবারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের একটি সিরিজে এআই-র ঝুঁকিকে 'গ্লোবাল ওয়ারমিং স্ক্যাম' এবং 'রাশিয়া হোক্স'-এর সাথে তুলনা করেছেন।
ট্রাম্পের দাবি: শুধু 'শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান' রাষ্ট্রপতিই প্রর্যাপ্ত নিরাপত্তা
রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প লিখেছেন, এআই-এর জন্য একমাত্র প্রযোজ্য 'গার্ডরেল' হলো একটি 'শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান' রাষ্ট্রপতি। তিনি আরো দাবি করেছেন যে, এআই এবং ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে একটি 'সিক কনস্পিরেসি' বা রোগান্তক ষড়যন্ত্র চলছে এবং এর একমাত্র লভ্য দেশ চীন। "যে এআই জিতবে, বিশ্ব জিতবে" — এই মতামত তার পোস্টে প্রতিফলিত হয়েছে।
অ্যানথ্রোপিকের প্রস্তাব: বাধ্যতামূলক 'কিল সুইচ' এবং তৃতীয় পক্ষের যাচাই
এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি অ্যানথ্রোপিকের সাতটি সহ-প্রতিষ্ঠাতার একজন জ্যাক ক্লার্ক বিবিসিকে বলেছেন, এআই সফ্টওয়্যার যদি অতিরিক্ত বিপদজনক হয়ে ওঠে তবে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার একটি উপায় — অর্থাৎ 'কিল সুইচ' — সমাজ cuốiকার নিয়মে বাঁধতে চাইতে পারে। তিনি জানান, অধিকাংশ ল্যাবের নিজস্ব পদ্ধতি আছে সিস্টেম বন্ধ করার, কিন্তু সেটি আইন 통해서 বাধ্যতামূলক করা দরকার হতে পারে। ক্লার্কের এই মন্তব্য неদিন আগে অ্যানথ্রোপিকের 비롯한 অন্য 주도 এআই কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মীদের সতর্কসূচক বক্তব্যের পর आया।
বাজার প্রতিক্রিয়া এবং চীনের দৃষ্টিভঙ্গি
প্রযুক্তি শিল্পের নেতাদের এই সতর্কতার পেছনে বাজারে টেক শেয়ারের বিক্রি-দর শুরু হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এআই বিকাশের সম্ভাব্য মন্দগতির আশঙ্কায় চিন্তিত। চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া গ্লোবাল টাইমসে ফুডান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিন কিয়াং মন্তব্য করেছেন, চীনের দ্রুত এআই অগ্রগতির কারণে আমেরিকার উদ্বেগ তার নীতিগত অগ্রাধিকারকে বিকৃত করছে। তিনি বলেন, "তারা জানেন চীন এআই-এ একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে, এবং ভয় করছেন আমেরيكا যদি বিকাশ ধীর করে বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনে তবে চীন আরও দ্রুত পিছিয়ে দেবে।"
ব্রিটেন এবং মাইক্রোসফটের দৃষ্টিভঙ্গি: সুযোগ ও ঝুঁকির ভারসাম্য
ব্রিটেনের ব্যবসা সচিব জনাথন রেনল্ডস মঙ্গলবার বিবিসিকে বলেছেন, মানুষ কখনো এআই-এর প্রভাব নিয়ে আত্মসন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়, তবে অতিরঞ্জিত হওয়া যেন না সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। "ঝুঁকি আছে, কিন্তু খুব বড় সুযোগও আছে — জনসেবা, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতিতে অবদান," তিনি যুক্তি দিয়েছেন। মাইক্রোসফট এআই-এর প্রধান নির্বাহী মুস্তাফা সুলেম্যান সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, কোম্পানি 'হিউমানিস্ট এআই' নামে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যা গত কয়েক মাস থেকে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বর্তমান বিতর্কের কারণে এখন প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক স্পেকট্রামের উভয় পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণের ডাক
এই প্রযুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে বিতর্ক কতটা বড় হয়েছে তা বোঝাচ্ছে মঙ্গলবারের 'প্রো-হিউম্যান অ্যাসেম্বলি' সভা, যেখানে ট্রাম্পের সাবেক প্রধান কৌশলগত স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভ ব্যানন এবং প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স একসাথে বক্তব্য রাখবেন। স্যান্ডার্স গত সপ্তাহে বিবিসির নিউজনাইটে বলেছিলেন, "অনিয়ন্ত্রিত এআই বৃদ্ধি রোধ করার জন্য আমাদের অবিলম্বে কিছু করতে হবে। মানবজাতি विलুপ্ত হওয়ার অস্তিত্বগত ঝুঁকি রয়েছে।" অ্যানথ্রোপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সনের ভাইরাল পোস্ট এবং সহকর্মী ইভান হাবিনজারের মন্তব্য — এআই মানবজাতিকে এক দশকে নষ্ট করার সম্ভাবনা ১০%-এর বেশি — এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। অ্যানথ্রোপিকের সিইও ডারিও আমোদেই, ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান এবং xAI-এর ইলন মাস্ক সবাই শিল্প-স্তরে বিকাশ ধীর করার এবং স্বতন্ত্র নিরীক্ষণের পক্ষে মতামত দিয়েছেন, যদিও আমোদেই বাণিজ্যিক সুবিধা ছাড়া না করা শর্ত রেখেছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: বাঙালি পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই теперь শুধু সিলিকন ভ্যালির বিষয় নয়; এটি স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা এবং অর্থনীতি — সব খাতেই বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার মতো উন্নতিশীল অর্থনীতির জন্য গেম-চেঞ্জার হতে পারে। কিন্তু যদি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে বড় অর্থনীতি — আমেরিকা এবং চীন — এআই নিয়ন্ত্রণকে 지정পথিক প্রতিযোগিতার লেন্সে দেখে, তবে নিরাপত্তা মানদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। ট্রাম্পের 'হোক্স' দাবি এবং চীনের প্রতিক্রিয়া দেখায়, নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য কতটা দূরে। বাংলাদেশের জন্য পাঠ হলো: নিজস্ব এআই কৌশল এবং নীতিমালা গড়ে তোলার সময় বিশ্বের এই শক্তি-সাম্য ও নিরাপত্তা বিতর্ককে খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।